কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মধ্যকুমরপুর থেকে পাখিরহাট পর্যন্ত মাত্র দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সড়কে ১৪টি বাঁক থাকায় চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন পথচারী ও চালকরা। অত্যন্ত সরু এই সড়কে একের পর এক বাঁক থাকা এবং কোনো সতর্কীকরণ চিহ্ন না থাকায় প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, নাগেশ্বরী উপজেলার কিছু অংশ এবং ফুলবাড়ী উপজেলাসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ নিয়মিত এই সড়কটি ব্যবহার করে জেলা শহরে যাতায়াত করেন। এছাড়া প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও অটোরিকশাচালকসহ শত শত মানুষ ও যানবাহন এই পথ দিয়ে চলাচল করে। কিন্তু ঘন ঘন অন্ধ বাঁক থাকার কারণে বিপরীত দিক থেকে আসা কোনো যানবাহন দূর থেকে দেখা যায় না। ফলে প্রায়ই মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে কিংবা চালকরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হন।
মধ্যকুমরপুর গ্রামের বাসিন্দা হারুন মিয়া বলেন, “দিনে যেমন এই সড়কে যাতায়াত করা চরম ঝুঁকিপূর্ণ, রাতে আতঙ্ক আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। একটি বাঁক পার হতে না হতেই আরেকটি তীব্র বাঁক চলে আসে। অনেক চালক গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে প্রায়ই দুর্ঘটনায় পড়েন। আমরা চাই কর্তৃপক্ষ দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।”
সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা রেহেনা বেগম জানান, “আমাদের ছোট ছোট সন্তানরা প্রতিদিন এই ঝুঁকি নিয়ে সড়কটি দিয়ে স্কুলে যাতায়াত করে। প্রতিটি বাঁকেই চরম ভয় ও উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকতে হয়। অন্তত অত্যন্ত বিপজ্জনক বাঁকগুলো সোজা করা কিংবা সেখানে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টাঙানো খুবই জরুরি।”
চলাচলের চরম দুর্ভোগের কথা জানিয়ে অটোরিকশাচালক আপেল মিয়া বলেন, “যাত্রী নিয়ে এই সড়কে চলাচলের সময় আমাদের সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়তে হয়। বাঁকে এসে হর্ন বাজিয়েও অনেক সময় কোনো লাভ হয় না, কারণ সামনে কী আছে তা দূর থেকে বোঝাই যায় না। সামান্য একটু অসাবধান হলেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যায়।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। সড়কের কোথাও কোনো গতিনিয়ন্ত্রণ চিহ্ন, প্রতিফলক বা সতর্কতামূলক বোর্ড স্থাপন করা হয়নি। বিশেষ করে বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে সড়কের দুই পাশের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় চলাচলের ঝুঁকি আরও মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায় বলে তারা জানান।
এই বিষয়ে সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদুর রহমান বলেন, “সড়কে এই ধারাবাহিক দুর্ঘটনার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার নিরাপত্তার কথা গভীরভাবে বিবেচনা করে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো প্রকৌশলগতভাবে দ্রুত সংস্কারের জন্য আমি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। প্রয়োজনে দ্রুত সড়কটি সরেজমিন পরিদর্শন করে কার্যকরী পরিকল্পনা নেওয়া উচিত।”
অন্যদিকে, কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, “মধ্যকুমরপুর-পাখিরহাট সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন একটি সড়ক। এই সড়কের ঘন ঘন অন্ধ বাঁকের বিষয়টি আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করব। এলজিইডি যদি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করে, তবে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।”