জানাজা শেষ হয়েছে। পাশাপাশি খুঁড়ে নেওয়া হয়েছে তিনটি কবর। একে একে মা এবং তাঁর দুই শিশুসন্তানকে সেখানে দাফন করা হলো। এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মায়ের সঙ্গে না-ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছে দুই সন্তানও। স্ত্রী ও সন্তানদের এভাবে হারিয়ে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন প্রভাষক শহিদুল ইসলাম। তাঁর এই অপূরণীয় ক্ষতিতে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না কেউ।

গতকাল শনিবার দুপুরে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় ধানবোঝাই একটি ট্রাকের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার পাঁচ আরোহী প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শহিদুল ইসলামের স্ত্রী লিপি বেগম (৩০), ছেলে রিশাদ মিয়া (১২) এবং মেয়ে তুবা (৭) রয়েছেন। আজ রোববার সকালে তাঁদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

একই দুর্ঘটনায় আরও দুজন প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁরা হলেন যাদুরচর ইউনিয়নের কর্তিমারী বাজার এলাকার বাদল মিয়ার স্ত্রী শরিফা বেগম (৪২) এবং রাজীবপুর উপজেলার মণ্ডলপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলাম (৪২)। তাঁদেরও নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। অন্যদিকে, এই দুর্ঘটনায় আহত বৃষ্টি খাতুন (২৫) বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শহিদুল ইসলামের বাড়ি রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের চতলাকান্দা এলাকায়। তিনি পেশায় রৌমারী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন প্রভাষক। জানা গেছে, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানেরা জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নের পান্তামারী গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে ফেরার পথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন।

জানাজায় অংশ নেওয়া স্থানীয় কলেজশিক্ষক একরামুল হক বলেন, “শহিদুল ইসলামের দুই সন্তানের মধ্যে ছেলে রিশাদ এবার ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল। তাকে ক্যাডেট কলেজে ভর্তি করানোর জন্য কোচিং করানোর পরিকল্পনা ছিল পরিবারের। কিন্তু সেই সম্ভাবনাময় শিশুটিও আর নেই। মেয়েটিও মায়ের সঙ্গে চিরবিদায় নিয়েছে। একসঙ্গে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হারিয়ে শহিদুল ইসলাম বাক্‌রুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের সায়েদাবাদ বাজারের কাছে বিপরীত দিক থেকে আসা ধানবোঝাই একটি ট্রাক অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। আহত আরও দুজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁদের মৃত্যু হয়।

রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাউসার আলী রোববার বিকেলে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের গতকাল রাতেই পরিবারের কাছে দেওয়া হয়েছিল। ওই ঘটনায় ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। শোকাহত পরিবারের পক্ষে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।”