নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় তিন দিনের রিমান্ডের মেয়াদ শেষ করে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে ও উপজেলা যুবদলের বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুজ্জামান মিন্টুকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপপরিদর্শক শফিকুল ইসলাম অভিযুক্ত মিন্টুকে নাটোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করেন। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক সাদ্দাম হোসেন তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের এই আদেশের পর ডিবি পুলিশের গাড়িতে করে মিন্টুকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনা প্রসঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, “শাকিল ইসলাম হত্যা মামলার অধিকতর তদন্তের স্বার্থে মিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। নির্ধারিত রিমান্ড শেষে শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তদন্তের স্বার্থে মিন্টুকে আবারও রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হতে পারে।”
অন্যদিকে, এই মামলার তদন্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা গ্রাম থেকে আরও দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে ডিবি পুলিশ। আটককৃতরা হলেন ওই গ্রামেরই বাসিন্দা আল আমিন ও আনিছুর রহমান।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম জানান, শাকিল ইসলাম হত্যা মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। তদন্তের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে ধারাবারিষা গ্রাম থেকে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত ১৪ অক্টোবর রাতে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলায় গুরুতর আহত হন গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম। হামলাকারীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।