নাটোর জেলা ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলামের হত্যা রহস্য উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই মামলার সাথে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন ২৫ বছর বয়সী মো. আলামিন এবং ২৬ বছর বয়সী আনিছুর রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে গুরুদাসপুরের ধারাবারিষা গ্রামে তাঁদের নিজ বাড়ি থেকে তাঁদের আটক করে ডিবি পুলিশ। আজ শুক্রবার বিকেলে পুলিশ কর্তৃপক্ষ এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এর আগে এই হত্যা মামলায় নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের বড় ছেলে নূরুজ্জামানকে (মিন্টু) গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ তাঁকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁর পুলিশি হেফাজতে থাকার কথা।
জেলা ডিবি সূত্রে জানা গেছে, শাকিল হত্যার তদন্তের স্বার্থে এবং পুলিশি হেফাজতে থাকা নূরুজ্জামানের দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে গুরুদাসপুরের ধারাবারিষা গ্রাম থেকে আলামিন ও আনিছুরকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁদের নাটোর ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে।
ডিবি পুলিশ সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, পুলিশ হেফাজতে থাকা নূরুজ্জামান শাকিল হত্যার সাথে জড়িত থাকতে পারে এমন কয়েকজন ব্যক্তির নাম পুলিশকে জানিয়েছেন। আটককৃত আলামিন ও আনিছুর তাঁদের মধ্যে দুজন। তবে এই দুই ব্যক্তির কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে কি না, তা তদন্তের গোপনীয়তার স্বার্থে প্রকাশ করতে রাজি হয়নি ওই সূত্র।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটায় সংবাদমাধ্যম মুক্তকণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন যে, এই দুই ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানাননি।
অন্যদিকে, নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য এবং গুরুদাসপুরের বাসিন্দা আবু হেনা মোস্তফা কামাল মুক্তকণ্ঠকে জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক হওয়া এই দুই ব্যক্তি আগে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। তাঁরা মূলত যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রাসেল হোসাইনের অনুসারী। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে তাঁদের নূরুজ্জামানের সাথে চলাফেরা করতে দেখা যেত বলে তিনি দাবি করেন।
পুলিশ হেফাজতে থাকা নূরুজ্জামানের কাছ থেকে কী তথ্য পাওয়া গেছে অথবা তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেবেন কি না, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, “এসব ব্যাপারে শেষ মুহূর্তের আলোচনা চলছে। এখনই বলা যাবে না।” নূরুজ্জামানের জন্য পুনরায় রিমান্ড চাওয়া হবে কি না, সেই বিষয়েও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে তিনি জানান।
এদিকে, ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়া নিয়ে জেলা বিএনপির এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে সাংবাদিকদের জানানো হবে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান।
উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর রাতে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছিল গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলামকে। দীর্ঘ ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত সোমবার তাঁর মৃত্যু হয়। হামলার পর ১৯ অক্টোবর শাকিলের বাবা রবিউল করিম অজ্ঞাতপরিচয় ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে গুরুদাসপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। শাকিলের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয় এবং এই ঘটনায় পুলিশ সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের ছেলে নূরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে।