মাত্র ৩৫ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল বাংলাদেশ। তখন প্রশ্ন উঠেছিল, দলের লিড একশ পার হবে কি না। তবে আলোর স্বল্পতার কারণে খেলা দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে টাইগাররা। তৃতীয় দিনের সমাপ্তিতে জাকের আলী ও নাঈম হাসানের ২৬ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটির সৌজন্যে ১০৬ রানের লিড নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের অধিকাংশ ব্যাটসম্যানের পতনের পেছনে উইকেটের তেমন প্রভাব ছিল না বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনারদের বল বেশ ঘুরছে এবং উইকেট তাদেরই সহায়তা করছে। মিরপুরের এই টেস্ট ম্যাচে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাটিং করা মোটেও সহজ হবে না। এমতাবস্থায় বাংলাদেশ কত রানের লক্ষ্য দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে, তা নিয়ে চলছে আলোচনা।
তৃতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নাঈম হাসান বলেন, “চেষ্টা করব যত বেশি রান করতে পারি। এখন আমি আর জাকের ভাই ব্যাটিং করছি, আমরা যদি লম্বা সময় খেলতে পারি, তাহলে যত বেশি রানের লক্ষ্য দেব ততই আমাদের জন্য ভালো। ২০০ রান হলে খুবই ভালো হবে। চেষ্টা থাকবে আরও বেশি করার।”
আজকের উইকেটের আচরণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০০ রানের লিড পাওয়াটা বেশ কঠিন হতে পারে। ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে দিন শেষ করা বাংলাদেশের হাতে এখন মাত্র ৪টি উইকেট বাকি। যদি বাংলাদেশ ২০০ রানের লিড না পায় এবং লিড দেড়শ বা তার আশেপাশে থাকে, তবে কি জয় সম্ভব? এই প্রশ্নের জবাবে নাঈম বলেন, “আমাদের তো উইকেট আছে, আমরা চেষ্টা করব যত বেশি রান করতে পারি। আমরা যত বেশি রান করতে পারব ততই আমাদের জন্য ভালো। এখন কোনো লক্ষ্য ঠিক না করি। আপনারা বিশ্বাস রাখতে পারেন, আমি আর জাকের ভাই যেন লম্বা খেলতে পারি।”
বাংলাদেশ যখন বড় রানের লক্ষ্য দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের আটকে রাখার কৌশল সাজিয়েছে। আগামীকাল সকাল সকালই জাকের ও নাঈমের এই জুটিটি ভেঙে দিতে চায় ক্যারিবিয়ানরা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং কোচ ফ্লয়েড রেইফার দিন শেষের সংবাদ সম্মেলনে জানান, “যত দ্রুত সম্ভব ওদের শেষ কয়েকজন ব্যাটসম্যানকে আউট করার চেষ্টা করব। যদি আমাদের লক্ষ্য ১৭৫ রান হয়, তাহলে আমার মনে হয় এই উইকেটে তা তাড়া করা আমাদের জন্য খুবই সম্ভব। তবে সে জন্য শুরুতেই উইকেট নিতে হবে।”
উইকেট কঠিন হওয়া সত্ত্বেও ব্যাটসম্যানদের স্পিন খেলার সক্ষমতার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী রেইফার। তাঁর মতে, রক্ষণাত্মক ব্যাটিং এবং রান তোলার ক্ষেত্রে তাঁর দল যথেষ্ট উন্নতি করেছে। তবে মিরপুরের এই উইকেটে তারা আক্রমণাত্মক কৌশলই অবলম্বন করবে।
রেইফার আরও বলেন, “আমাদের সামনে এখন একটাই পথ—ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে ব্যাটিং করতে হবে এবং রান করার সুযোগ খুঁজতে হবে। উইকেটে বল নিচু হচ্ছে, কিছু বল আবার ঘুরছেও। ব্যাকফুটে খেলতে গেলে নিচু হয়ে পেছনে যেতে হবে এবং উইকেটের সামনের দিকে রান করার চেষ্টা করতে হবে। তবে আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ইতিবাচক মানসিকতা ধরে রাখা।”