টানা তিন ম্যাচে জয়লাভ করে আগেই সিরিজ নিজেদের পকেটে পুরে নিয়েছিল ভারত। চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও সেই জয়ের ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্য ছিল তাদের। তবে এবার ঘরের মাঠে দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তনের প্রদর্শনী করল নিউজিল্যান্ড। গ্লেন ফিলিপসের বিধ্বংসী সেঞ্চুরি এবং মাইকেল ব্রেসওয়েলের ঝড়ো ফিফটির ওপর ভর করে রানের পাহাড় গড়ে তোলে কিউইরা। সেই বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ভারত। শেষ পর্যন্ত ৮৭ রানের এক বিশাল জয় তুলে নিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে প্রথম সাফল্যের স্বাদ পেল স্বাগতিকরা।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ২৫৯ রান সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ড। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটিই এখন কিউইদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। জবাবে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৭২ রানেই থেমে যায় ভারতের ইনিংস। এর ফলে টানা তিন ম্যাচ হারের দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে অবশেষে জয়ের মুখ দেখল মিচেল স্যান্টনারের নেতৃত্বাধীন দল।
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার। শুরুর দিকে সেই সিদ্ধান্ত সঠিক বলে মনে হচ্ছিল। ইনিংসের প্রথম ওভারেই মায়াঙ্ক যাদব মাত্র ৩ রানে ফিরিয়ে দেন টিম সেইফার্টকে। এরপর মাত্র ৯ বলে ২৪ রান করা ড্যারিল মিচেলকেও এলবিডব্লিউ করে সাজঘরে পাঠান এই পেসার। মাত্র ৩৪ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়েছিল স্বাগতিক দল।
তবে সেই চাপ সামলে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন ফিন অ্যালেন ও গ্লেন ফিলিপস। এই দুই ব্যাটার দ্রুত রান তুলতে শুরু করেন। তবে অষ্টম ওভারের শেষ বলে ১৭ বলে ৩১ রান করা অ্যালেনকে আউট করেন অক্ষর প্যাটেল। দলীয় ১১২ রানে বেভন জ্যাকবসও বিদায় নিলে নিউজিল্যান্ড আবারও কিছুটা চাপে পড়ে।
কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ফিলিপস ও ব্রেসওয়েল। ভারতীয় বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালান এই জুটি। পঞ্চম উইকেটে মাত্র ৪০ বলে ১১৫ রানের এক বিধ্বংসী জুটি গড়েন তারা। তাঁদের এই ব্যাটিং ঝড়াবতারে শেষ দশ ওভারে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ পৌঁছে যায় এক নতুন উচ্চতায়।
বিশেষ করে ভারতীয় পেসার নীতীশ কুমার রেড্ডির ওপর চড়াও হন ফিলিপস। ইনিংসের ১৬তম ওভারে চারটি ছক্কাসহ ৩২ রান তুলে নেন তিনি। তার এই আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় নিউজিল্যান্ডের হাতে।
মাত্র ৪৬ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ফিলিপস। শেষ পর্যন্ত ৪৯ বলে ১০৭ রান করে আউট হন তিনি। তার এই ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ১০টি ছক্কা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি।
অন্য প্রান্তে ব্রেসওয়েলও ছিলেন সমান আক্রমণাত্মক। মাত্র ১৯ বলে ফিফটি পূর্ণ করা এই অলরাউন্ডার শেষ পর্যন্ত ২৫ বলে ৬৫ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ৬টি ছক্কা। ফিলিপসের সঙ্গে তার এই জুটিই নিউজিল্যান্ডকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়।
ভারতের পক্ষে সবচেয়ে সফল বোলার হিসেবে উজ্জ্বল থাকেন মায়াঙ্ক যাদব। চার ওভারে ৪৮ রান খরচ করে ৩ উইকেট নেন তিনি। এছাড়া অর্শদীপ সিং, প্রিন্স যাদব, অক্ষর প্যাটেল ও নীতীশ কুমার রেড্ডি একটি করে উইকেট সংগ্রহ করেন। তবে ফিলিপস-ব্রেসওয়েলের তাণ্ডব থামাতে ব্যর্থ হয় ভারতীয় বোলিং আক্রমণ।
এই ইনিংসের মাধ্যমে নিজেদের আগের সর্বোচ্চ ৫ উইকেটে ২৫৪ রানের রেকর্ড ভেঙে দেয় নিউজিল্যান্ড। পাশাপাশি ভারতের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের নতুন রেকর্ড গড়েছে কিউইরা। এর আগে চলতি বছর ইংল্যান্ডের করা ৩ উইকেটে ২৫৭ রান ছিল ভারতের বিপক্ষে সর্বোচ্চ সংগ্রহ।
২৬০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে ভারত। আগের তিন ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাটিং করা দলটির ব্যাটাররা এবার সেই ছন্দ ধরে রাখতে পারেননি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ক্রমেই কঠিন হয়ে ওঠে রান তাড়া করার পথ।
ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেন তিলক ভার্মা। ৩৫ বল খেলে এই রান করেন তিনি। তবে বড় লক্ষ্য তাড়া করার ক্ষেত্রে তার এই ইনিংস যথেষ্ট ছিল না। অন্য ব্যাটাররাও বড় কোনো জুটি গড়তে ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত জয়ের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি সফরকারীরা।
নিউজিল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন জ্যাকব ডাফি। চার ওভারে মাত্র ২৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন তিনি। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ভেঙে পড়ে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ। ফিলিপসের সেঞ্চুরিতে পাওয়া বড় সংগ্রহ রক্ষা করতে তাই খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি স্বাগতিকদের।
দুর্দান্ত সেঞ্চুরির জন্য ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন গ্লেন ফিলিপস। ব্যাট হাতে তার ১০৭ রানের ইনিংসই ভারতের বিপক্ষে এই বড় জয় এনে দেওয়ার মূল ভিত্তি গড়ে দেয়।
এই জয়ের ফলে সিরিজে ব্যবধান ৩-১ করেছে নিউজিল্যান্ড। যদিও প্রথম তিন ম্যাচ জিতেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে ভারত। আগামী রোববার (১ নভেম্বর) হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে অনুষ্ঠিত হবে পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টি। সেখানে জিতে ব্যবধান কমানোই এখন নিউজিল্যান্ডের লক্ষ্য। অন্যদিকে জয় দিয়ে সফরের টি-টোয়েন্টি পর্ব শেষ করতে চাইবে ভারত।