প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে যে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, তার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার বিমান কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গঠিত এই কমিটিকে আগামী চার কার্যদিবসের মধ্যে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) এয়ার কমোডর এম নিয়ামুল কবীর স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশের মাধ্যমে এই বিষয়টি জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ অনুযায়ী, তদন্ত কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিমানের চিফ (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিডিউলিং)। কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন ব্যবস্থাপক (আইনবিষয়ক)। এছাড়া কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন চিফ ইঞ্জিনিয়ার (ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোডাকশন) এবং ডেপুটি চিফ (ফ্লাইট সেফটি)।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত কার্যক্রমের প্রয়োজনে বিমানের যেকোনো কর্মকর্তাকে কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ থাকবে।

কমিটিকে বিশেষভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিজি ৩৭৭ ফ্লাইটটির কারিগরি ত্রুটির প্রকৃত ধরন ও কারণ উদ্‌ঘাটন করার জন্য। একই সাথে ত্রুটি শনাক্তকরণ, তা নিরসন এবং পরবর্তী সময়ে উড়োজাহাজটির উড্ডয়ন উপযোগিতা নিশ্চিত করতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করবে এই কমিটি।

তদন্তের পরিধিতে আরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কারিগরি ত্রুটির ফলে ফ্লাইটের বিলম্ব, যাত্রীদের যে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে এবং এর ফলে বিমানের প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তির ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়েছে, তা নিরূপণ করা।

ঘটনাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করা হয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করবে কমিটি। বিশেষ করে কারও কোনো পর্যায়ে দায়িত্বে অবহেলা, সমন্বয়হীনতা কিংবা প্রক্রিয়াগত কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা যাচাই করে দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করার কথা বলা হয়েছে কমিটিকে।

ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের কারিগরি ত্রুটির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করবে এই তদন্ত কমিটি।

উল্লেখ্য, চার দিনের জাপান সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সফরসঙ্গীদের স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে দেশটির নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। তবে উড়োজাহাজটিতে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইটটি ছেড়ে যেতে পারেনি।

নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৫ ঘণ্টা পর স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে ফ্লাইটটি টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার পথে যাত্রা করে। দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে ফ্লাইটটি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদ অবতরণ করে।