দুই ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি ৩৭৭-এর যান্ত্রিক ত্রুটি দূর করা সম্ভব হয়নি। ফলে ফ্লাইটটি বিমানবন্দরে আটকে থাকে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বিমান থেকে নেমে যান। একই সাথে অন্যান্য যাত্রীদেরও বিমানবন্দরের লাউঞ্জে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সূত্রমতে, বিমানের পাইলট ক্যাপ্টেন ইমামুল জানিয়েছেন যে, প্রকৌশলীরা বর্তমানে ত্রুটি সারানোর জন্য কাজ করছেন। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে তিনি জানান।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটটির উড্ডয়নের কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৪০ মিনিট পর ককপিট থেকে পাইলট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে যাত্রায় বিলম্বের কথা জানান এবং দুঃখ প্রকাশ করেন। এরপর বিমানটিকে পুনরায় টারমাকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সূত্রে জানা গেছে, ভিভিআইপি যাত্রীদের বহনকারী বিজি-৩৭৭ (বিজি-৩৭৭) ফ্লাইটটির নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নির্ধারিত গন্তব্যে যাত্রার কথা ছিল। বোর্ডিং প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর উড়োজাহাজটিকে টার্মিনাল থেকে পুশব্যাক করা হয়। কিন্তু রানওয়ের দিকে যাওয়ার সময় ককপিটে স্পয়লারের ত্রুটিসংক্রান্ত সংকেত দেখা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে উড্ডয়নের সিদ্ধান্ত বাতিল করেন পাইলট। পরবর্তীতে কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে সমন্বয় করে উড়োজাহাজটিকে নির্ধারিত পার্কিং এলাকায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়। ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পরপরই উড়োজাহাজটির কারিগরি পরীক্ষা ও মেরামতের কাজ শুরু করেন প্রকৌশলীরা।
সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল শাখার তথ্য অনুযায়ী, ইঞ্জিনিয়ার সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়া ও প্রকৌশলী মান্নানের নেতৃত্বে একটি কারিগরি দল ত্রুটি সারানোর চেষ্টা করছে।
প্রকৌশলীদের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, ত্রুটি মেরামত করে উড়োজাহাজটিকে পুনরায় উড্ডয়নযোগ্য অবস্থায় আনতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। তবে মেরামতের কাজ শেষ হওয়া এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার ওপরই ফ্লাইটটির পরবর্তী যাত্রা নির্ভর করছে।
উল্লেখ্য, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গত ২৬ অক্টোবর টোকিও যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। এ ছাড়া জাপানের বিভিন্ন বেসরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।