সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন সাত বাংলাদেশি কর্মী। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করার পর আগামীকাল শনিবার তাঁদের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। দুর্ঘটনার প্রায় তিন মাস পর তাঁদের মরদেহ স্বজনদের কাছে ফিরছে।
শনাক্ত হওয়া এই সাতজনের মধ্যে পাঁচজন নওগাঁ জেলার বাসিন্দা এবং দুজন নাটোর জেলার বাসিন্দা। নওগাঁর নিহতরা হলেন— সদর উপজেলার পার নওগাঁ গ্রামের শাহিন, আত্রাই উপজেলার দুবাই গ্রামের হাসিবুল হাসান, মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ প্রামাণিক, মাধবপুর গ্রামের মাসিদুল সরদার এবং সাহানগর গ্রামের সাগর আলী। অন্যদিকে নাটোরের লালপুর উপজেলার দীঘিরপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ শামীম ও খাজুরা গ্রামের শরিফ হোসেনের মরদেহও দেশে ফিরছে।
উল্লেখ্য যে, গত ৯ আগস্ট রিয়াদের ওই সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোট ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মী নিহত হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৯ জনের মরদেহ গত ২৭ আগস্ট দেশে পাঠানো হয়েছিল। বাকি সাতজনের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হয়েছিল, যা সম্পন্ন হওয়ার পর এবার তাঁদের মরদেহ পাঠানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে শনিবার সকাল ৮টা ৫ মিনিটে এই ৭ জনের মরদেহ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কাউন্সেলর (শ্রম) মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী স্বাক্ষরিত চিঠিতে আরও জানানো হয়েছে, ১০ অক্টোবর থেকে রিয়াদ থেকে সব ফ্লাইট স্থগিত থাকায় মরদেহগুলো প্রথমে সড়কপথে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকায় পাঠানো হবে। এই প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের এই বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মুনিজ্জামান।
দুর্ঘটনার ২ মাস ২২ দিন পর মরদেহ ফেরার খবরে শোকাবহ হয়ে উঠেছে পরিবারগুলো। প্রিয়জনকে শেষবারের মতো দেখার আকুল অপেক্ষা এবং চিরতরে হারানোর বেদনা এখন তাঁদের সঙ্গী। স্বজনরা মরদেহ গ্রহণ করে নিজ নিজ এলাকায় নিয়ে দাফন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
নওগাঁ শহরের পারনওগাঁ তাজের মোড় এলাকার বাসিন্দা শাহিনের স্ত্রী পারভীন গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “মানুষটাক তো হারায়েই ফেলছি। যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে। এখন লাশটা অন্তত দেশত থাকলে ছাওয়াল-পোয়ালরা বাপের লাশটা দেখতে প্যাবে।”