কুয়েতে কর্মরত আকামাবিহীন বা বৈধ অনুমতিপত্রহীন প্রবাসীদের মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানোর কথা বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাঁদা সংগ্রহের বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। একই সাথে এ ধরনের প্রতারণামূলক আহ্বানে বিভ্রান্ত না হয়ে সরাসরি দূতাবাসের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে প্রবাসীদের।

গত রোববার (৪ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ দূতাবাস এই অনুরোধ জানিয়েছে।

দূতাবাস তাদের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে যে, সম্প্রতি একটি স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে কুয়েতে আকামাবিহীন কোনো প্রবাসী কর্মী মারা গেলে তার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর নামে চাঁদা বা অর্থ সংগ্রহের জন্য উসকানি ও উৎসাহ দিচ্ছে। তবে কুয়েতের শ্রম আইন অনুযায়ী মরদেহ পাঠানোর খরচের বিষয়ে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “কুয়েতের শ্রম আইন অনুযায়ী ‘১৮ নম্বর ভিসায়’ কর্মরত কোনো প্রবাসী কর্মী মারা গেলে মরদেহ দেশে পাঠানোর খরচ সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান বহন করতে বাধ্য।”

অন্যদিকে, গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরতদের ক্ষেত্রে নিয়ম ভিন্ন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, “‘২০ নম্বর ভিসায়’ গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত অবস্থায় কারও মৃত্যু হলে সেই খরচ বহন করবেন সংশ্লিষ্ট কফিল (নিয়োগকর্তা)।” এছাড়া যদি কোনো কর্মীর কফিল না থাকে অথবা আকামাবিহীন অবস্থায় কেউ মারা যান, তবে কুয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস সম্পূর্ণ নিজস্ব আর্থিক সহায়তায় সেই মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে থাকে।

বিদ্যমান আইন ও নিয়মাবলির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে দূতাবাস প্রবাসীদের সতর্ক করে বলেছে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মাধ্যমে এই ধরনের অর্থ সংগ্রহের কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনো আকামাবিহীন প্রবাসী কুয়েতে মারা গেলে পরিবার, স্বজন বা শুভাকাঙ্ক্ষীদের চাঁদা না তুলে সরাসরি বাংলাদেশ দূতাবাসে লিখিত আবেদন করার অনুরোধ করা হয়েছে।