হবিগঞ্জ শহরের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে নানা গুরুতর অনিয়মের দায়ে দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই অভিযানের পাশাপাশি একটি প্রতিষ্ঠানকে তাদের অনুমোদনের অতিরিক্ত শয্যাগুলো অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে এই তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতিনিধি, সিভিল সার্জন প্রতিনিধি, পুলিশ সুপার প্রতিনিধি এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত ‘বেসরকারি ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক তদারকি কমিটি’ যৌথভাবে এই অভিযানটি পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালীন হবিগঞ্জ শহরের সূর্যমুখী জেনারেল হাসপাতাল-২-এ ব্যাপক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার চিত্র ধরা পড়ে। দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির মাত্র ১০টি শয্যার অনুমোদন থাকলেও সেখানে ৩৬টি শয্যায় রোগী ভর্তি করে রাখা হয়েছিল। এছাড়া এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও নামের আগে ‘ডাক্তার’ লেখা, অপারেশনের সময় মূল সহযোগী চিকিৎসকের পরিবর্তে নার্স বা ওটি বয় দিয়ে ওটি অ্যাসিস্ট করানো, অপারেশন থিয়েটারে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও অব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি, যথাযথভাবে অটোক্ল্যাভ না করা এবং ফার্মেসিতে নিয়ম না মানাসহ নানা গুরুতর অনিয়ম শনাক্ত করা হয়।
এই ধরনের গুরুতর অনিয়মের দায়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে অনুমোদিত ১০টি শয্যা সচল রেখে অতিরিক্ত শয্যাগুলো বন্ধ করে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, শহরের মধুমতি ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিদর্শনের সময় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি, নির্ধারিত মূল্যতালিকার চেয়ে বেশি ফি নেওয়া এবং লাইসেন্স নবায়ন না থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়া যায়। এসব কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি বিদ্যমান ত্রুটিগুলো সংশোধনের জন্য কর্তৃপক্ষকে এক মাস সময় দেওয়া হয়েছে।
হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. রত্নদ্বীপ বিশ্বাস জানান, “বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ও তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এছাড়া লাইসেন্সবিহীন অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।”