সরকারি হাসপাতালে দালাল চক্র বিগত সরকারের সময়ে গড়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আগামী ১০ দিনের মধ্যে ১৬ হাজার কোটি টাকার দরপত্র আহ্বানের পরিকল্পনা রয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সরকারি সফরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন কোনো বেসরকারি ক্লিনিক স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হবে না। নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করা ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৫১ শয্যার উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিনসহ ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। এসব কেন্দ্রে স্থানীয়ভাবে ২০ জন রোগী সেবা নিতে পারবেন।

এ ছাড়া মাতৃত্বকালীন সেবার জন্য ২০টি এবং নবজাতকদের জন্য ২০টি শয্যা রাখা হবে। নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক দুটি ফিজিওথেরাপি সেন্টার এবং উন্নত মানের প্যাথলজি সেবার ব্যবস্থাও থাকবে।

ইউনিয়ন পর্যায়ে তিনতলা ভবন, নিয়োগ হবে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে ডরমিটরিসহ তিনতলা ভবন নির্মাণ করা হবে। এসব ভবনে চিকিৎসকদের থাকার ব্যবস্থা থাকবে। এ প্রকল্পের দরপত্রও একই সময়ে আহ্বানের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া ইউনিয়নের অধীন প্রতিটি পুরোনো ওয়ার্ডে একটি করে মেডিকেল ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে। এসব কেন্দ্রে মিডওয়াইফরা দায়িত্ব পালন করবেন। এ জন্য ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

তিনি বলেন, এসব কেন্দ্রে নারীদের স্তন ক্যানসার ও জরায়ুমুখের ক্যানসার শনাক্তে স্ক্রিনিং, রক্ত পরীক্ষা, জ্বর এবং উচ্চ ও নিম্ন রক্তচাপ পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। রোগীদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণের জন্য কার্ড দেওয়া হবে।

রোগের ধরন ও জটিলতা অনুযায়ী ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা এবং সর্বশেষ তৃতীয় স্তরের (টারশিয়ারি) হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ থাকবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

১১০০ ডায়ালাইসিস মেশিনের দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এরই মধ্যে এক হাজার ১০০টির বেশি ডায়ালাইসিস মেশিনের দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি এবং প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ১০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন দেওয়া হবে।

সে হিসাবে যেসব জেলায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রয়েছে, সেখানে মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতাল মিলিয়ে মোট ৬০টি মেশিন থাকবে। আর যেসব জেলায় মেডিকেল কলেজ নেই, সেখানে জেলা হাসপাতালে ১০টি মেশিন রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন নিয়োগে গুরুত্ব, আসছেন সাড়ে চারশ চিকিৎসক

স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট কমাতে নতুন নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী ১ তারিখে সাড়ে চারশ চিকিৎসক যোগ দেবেন। আরও পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এ জন্য সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে সাক্ষাৎকার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এ ছাড়া ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চলতি বছর ৪১ হাজার ৩৯১ জনকে নিয়োগ দেওয়ার কথা জানান তিনি। এসব স্বাস্থ্যকর্মী গ্রামাঞ্চলে, বিশেষ করে নারীদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে কাজ করবেন।

উপজেলা হাসপাতাল ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ

উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালব্যবস্থার ইতিহাস তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে প্রতিটি উপজেলায় ১৯ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে সেগুলো ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এরপর আর কোনো সরকার এ খাতে উল্লেখযোগ্য নজর দেয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবার উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সাত মাস পার হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মধ্যে চার মাস এমনিতেই চলে গেছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্য খাতের সব সেবা উন্নত করা সম্ভব নয়। বিগত সরকারের সময়ে স্বাস্থ্য খাতে লুটপাটের কারণে এ খাতের অবস্থা নিম্নমুখী হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান, জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মো. জালাল উদ্দিন ফাহিমসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।