চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ভারত থেকে সব ধরনের পণ্য আমদানি ও সরবরাহ কার্যক্রম বর্তমানে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ভারতীয় ট্রাকচালক এবং তাদের সহকারীদের (হেলপার) রাতে বন্দরের ভেতরে অবস্থান করার নতুন নির্দেশনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল থেকে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতির ফলে বন্দরের দুই পাশে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়েছে, যার ফলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও কাস্টমস সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ভারত থেকে পণ্য নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর খালাসের অপেক্ষায় থাকা ভারতীয় ট্রাকচালক ও সহকারীরা সাধারণত রাতে পাসপোর্ট বা বিশেষ সুবিধার মাধ্যমে ভারতে ফিরে যেতেন। তবে পরদিন সকালে পুনরায় বাংলাদেশে প্রবেশের সময় তাদের বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন অবৈধ ও নিষিদ্ধ পণ্য বহনের অভিযোগ পাওয়া যেত। ইতিপূর্বে এ ধরনের অবৈধ মালামালসহ একাধিক চালক ও সহকারীকে আটকও করা হয়েছে। এই সামগ্রিক নিরাপত্তাহীনতা দূর করতে এবং অবৈধ কারবার রুখতে পণ্য খালাস না হওয়া পর্যন্ত ভারতীয় চালক ও সহকারীদের রাতে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের ভেতরেই অবস্থান নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এই বিষয়ে গত ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি চিঠি প্রদান করা হয়।

তবে কর্তৃপক্ষের এই নতুন নিয়মের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতের মহদীপুর এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিত ঘোষ একটি পাল্টা চিঠি প্রেরণ করেন। ওই চিঠিতে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় থাকা চালক ও সহকারীদের অবাধ যাতায়াতের সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। এই দাবি মানা না হওয়া পর্যন্ত আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সোনামসজিদ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে কোনো পণ্যবাহী ট্রাক না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় ভারতীয় রপ্তানিকারক ও পরিবহন সংগঠনগুলো।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের সহকারী কাস্টমস কমিশনার মো. মাসুদ রানা জানান, “নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার স্বার্থেই রাতে চালক-সহকারীদের বন্দরের ভেতরে অবস্থানের চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এর প্রতিবাদে সকালে পণ্য সরবরাহ বন্ধ রাখেন।”

সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. রুহুল আমিন বলেন, “চালকদের রাতে বন্দরের ভেতরে থাকার নিয়ম চালুর মূল কারণ হলো সীমান্ত পারাপারের সময় অবৈধ পণ্যের চালান রোখা। তবে ভারতের রপ্তানিকারকরা পণ্য পাঠানো বন্ধ রাখায় একটি সাময়িক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। সৃষ্ট এই জটিলতা দূর করতে ও বন্দর কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মধ্যে আলোচনা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”