কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানী সৈকতে গোসলে নেমে প্রাণ হারিয়েছেন ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থী। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে সৈকতের দক্ষিণ অংশে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় পানিতে তলিয়ে যাওয়া আরও ১৫ জন শিক্ষার্থীকে বিচ কর্মীরা দ্রুত উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম মো. শান্ত (১৫)। জানা গেছে, তার বাড়ি কেরানীগঞ্জে। তবে তার বিস্তারিত পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, "শান্তর মরদেহ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।"

ইনানী সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত জেলা প্রশাসনের বিচ কর্মীদের সুপারভাইজার মাহবুবুর রহমান জানান, দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি মাদ্রাসার ১৬ শিক্ষার্থী ইনানী সৈকতে বেড়াতে আসে। সৈকতের চুনাপাথরের ওপর কিছুক্ষণ সময় কাটানোর পর তারা দক্ষিণ অংশের পানিতে গোসলে নামে। ঠিক সেই মুহূর্তেই বড় ঢেউয়ের ধাক্কায় তারা সবাই পানিতে তলিয়ে যায়। বিচ কর্মীরা দ্রুত তল্লাশি চালিয়ে ১৫ জনকে উদ্ধার করেন, তবে পরে সাগরের গভীর থেকে শান্তর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দূরে মেরিন ড্রাইভের পাশে অবস্থিত ইনানী সৈকত। প্রাকৃতিক চুনাপাথরে সমৃদ্ধ এই সৈকতে পর্যটকদের গোসলে নামা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে চলতি ২১ অক্টোবর বিকেলে কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে গোসলে নেমে পাঁচ পর্যটকের মৃত্যু হয়। নিহতরা সবাই ঢাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে তিনজন ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

কক্সবাজারের সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও উদ্ধার তৎপরতায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সি-সেফ লাইফগার্ডের ২৭ জন কর্মী দায়িত্ব পালন করেন। তাঁরা শহরের কলাতলী থেকে সুগন্ধা হয়ে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার সৈকতে কাজ করেন। তবে কলাতলী থেকে দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানী, পাটুয়ারটেক, বাহারছড়া ও টেকনাফ পর্যন্ত আরও ১১৫ কিলোমিটার সৈকতে নিখোঁজ পর্যটকদের উদ্ধারে কোনো লাইফগার্ড বা ডুবুরি নেই।

সি-সেফ লাইফগার্ডের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, "ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে। সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে সৈকতের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। এতে কলাতলী, লাবণী, সুগন্ধাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ২০টির বেশি গুপ্তখাল ও বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। জোয়ারের সময় এসব খাল ও গর্ত পানিতে ঢেকে যায়। ফলে পর্যটকেরা এগুলোর অবস্থান বুঝতে পারেন না।"

তিনি আরও বলেন, "ইনানী ও পাটুয়ারটেক সৈকতে পাথর থাকায় সেখানে গোসলে নামা ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো পর্যটক পাথর বা গুপ্তখালে আটকা পড়লে তাঁকে উদ্ধার করা কঠিন। স্রোতে ভেসে গেলে লাইফগার্ড বা বিচ কর্মীরা উদ্ধার করতে পারেন। কিন্তু পানির নিচে পাথর কিংবা গুপ্তখালে আটকা পড়লে ডুবুরি প্রয়োজন। কক্সবাজারে কোনো ডুবুরি নেই।"