কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেক সৈকত সংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনাটি এখন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রিসোর্টের সহকারী ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং তাঁর সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে তাঁকে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে এই আবেদন জানানো হয়। তবে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে উপস্থিত না থাকায় আজ সোমবারও রিমান্ডের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে আদালত সাময়িকভাবে জাহিদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত শনিবার সকালে টুপটুপ রিসোর্টে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকাজে সেখান থেকে ১০ জনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর ওই দিন রাত ১১টার দিকে অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর অভিযোগে উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশীষ সূত্রধর বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় চারজনের নাম নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ১৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে নাম উল্লেখ করা চার আসামি হলেন—রিসোর্টের মালিক ও চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর পূর্ব গোমদণ্ডীর বাসিন্দা মো. তানভীর সুলতান মিয়া (৩৮), প্রধান ব্যবস্থাপক বরিশালের সাঈদ আহমদ (৩২), ব্যবস্থাপক উখিয়ার জালিয়াপালং এলাকার মোহাম্মদ সাইদ (৩০) এবং সহকারী ব্যবস্থাপক চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চুনতি এলাকার জাহিদ হোসেন (২৯)। এছাড়া রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁয় কর্মরত আরও ১৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। তবে রিসোর্টের আরেক মালিক নেওয়াজ মোরশেদের নাম এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, রোববার বিকেলে জাহিদকে আদালতে তোলা হলেও তদন্ত কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না। তিনি বলেন, "রোববার বিকেলে জাহিদকে আদালতে তোলা হয়। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় যাওয়ায় রিমান্ড শুনানি হয়নি।"
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রিমন ঘোষ জানিয়েছেন, নিহতদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কাজে তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, "মঙ্গলবার কক্সবাজারে ফিরে জাহিদকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনের শুনানিতে অংশ নেবেন। আগুন লাগার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।"
অন্যদিকে, রিসোর্টের মালিক নেওয়াজ মোরশেদের নাম মামলায় যুক্ত করার বিষয়ে ওসি আতিকুর রহমান জানান, "রিসোর্টের মালিক নেওয়াজ মোরশেদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।" তিনি আরও জানান, এজাহারভুক্ত বাকি তিন আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টে ঠিক কতজন অবস্থান করছিলেন, সে সম্পর্কে পুলিশ বা প্রশাসনের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তিনি বলেন, "শনিবার তল্লাশি চালিয়ে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রোববার আবার তল্লাশি চালানো হলেও আর কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি।"