কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকায় অবস্থিত টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। রিসোর্টটির নির্মাণ অনুমোদনের বৈধতা এবং সেখানে অগ্নিনিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল কি না, তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে তদন্ত কমিটি। এরই অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কমিটির সদস্যরা এবং প্রত্যক্ষদর্শীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিস্তারিত বক্তব্য গ্রহণ করেছেন তারা।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে পাঁচ সদস্যের এই তদন্ত কমিটির প্রধান ও কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনিম জাহানের নেতৃত্বে পুরো রিসোর্ট এলাকাটি পরিদর্শন করা হয়।
পরিদর্শন শেষে দুপুরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তাসনিম জাহান বলেন, “রিসোর্টটি নির্মাণের সময় প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না এবং অগ্নিনিরাপত্তাসহ অন্যান্য সুরক্ষাব্যবস্থা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।” তিনি জানান, তদন্তের স্বার্থে প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া বক্তব্যের পাশাপাশি বিভিন্ন তথ্যের সমন্বয় করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হবে।
তদন্ত কমিটির প্রধান আরও উল্লেখ করেন যে, এই কমিটিতে বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তারা নিজ নিজ কারিগরি দক্ষতা ও অবস্থান থেকে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করবেন। বিশেষ করে রিসোর্টটি নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় আইনি অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হবে।
কক্সবাজারের পর্যটনকেন্দ্রিক স্থাপনাগুলোর অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাসনিম জাহান। তিনি বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয় না। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নেই, আবার অনেকে লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও নিয়ম মানেন না।” এই ধরনের অনিয়ম রোধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দায়িত্ব রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই দ্রুত স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে। জনবলের অভাবে সব ক্ষেত্রে যথাসময়ে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না।” তবে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, জেলা প্রশাসন এবং কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) সমন্বয়ে দ্রুত এই রিসোর্টগুলো যাচাই করা হবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তকরণের বিষয়ে তাসনিম জাহান জানান, ইতিমধ্যে কয়েকজন স্বজন যোগাযোগ করেছেন এবং তাদের নাম, ঠিকানা ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
সম্ভাব্য একজন ব্যক্তির বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া গেলেও অগ্নিকাণ্ডের মুহূর্তে তিনি রিসোর্টের ভেতরে ছিলেন নাকি বাইরে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তকারী কর্মকর্তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন এবং প্রয়োজনে ওই ব্যক্তির মোবাইল ফোনের লোকেশন বা অবস্থান শনাক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গঠিত এই পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিতে ফায়ার সার্ভিস, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং জেলা পুলিশের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। কমিটিকে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদনটি দাখিল করার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন কমিটির প্রধান।