কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে অবস্থিত একটি কাঠের রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়ক সংলগ্ন ‘টুপটুপ’ নামক এই রিসোর্টটিতে আগুন ধরে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

এই দুর্ঘটনায় শোকসন্তপ্ত পরিবারের আর্তনাদ শোনা গেছে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে। রাজধানীর বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম তাঁর পরিবারের সদস্যদের হারানোর কথা জানান। তিনি বলেন, “আমার ভাগনে–ভাগনি ছয়জন মারা গেছে। আমার তিন বোন। আমি একমাত্র ভাই। আমার তিন বোনের পাঁচ ছেলে–মেয়ে মারা গেছে। বড় ভাগনিরও বাচ্চা মারা গেছে। ওরা ৯ জন বেড়াতে এসেছিল। তিনজন বেঁচে আছে।”

আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের আরও জানান, “আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সবার ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। গত বৃহস্পতিবার তারা বেড়াতে কক্সবাজার এসেছিল। সকালে যখন আগুন লেগেছিল, তখন তাদের দুজন বাইরে ছিল। এরপর তারাই আমাকে খবর দিয়েছে।” এই দুঃসংবাদ শুনে তিনি দ্রুত ঢাকা থেকে উড়োজাহাজে করে কক্সবাজারে ছুটে আসেন।

ফায়ার সার্ভিসের কক্সবাজারের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন আজ বেলা সোয়া দুইটায় ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আরও মরদেহ উদ্ধার হতে পারে, তাই উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন রিসোর্টটিতে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে পৌঁছান এবং স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, আজ সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসে আগুনের খবর দেওয়া হয়। সকাল আটটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। তিনি জানান, তিনতলার দুটি শৌচাগারে চারজনের মরদেহ পাওয়া গেছে।

তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া আরও উল্লেখ করেন যে, সমুদ্রের তীব্র বাতাসের কারণে কাঠের তৈরি রিসোর্টে আগুন অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, “এ ধরনের স্থাপনায় বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, অগ্নিসংকেত, হোসপাইপ ও অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা থাকা দরকার। কিন্তু রিসোর্টটিতে এগুলোর কিছুই ছিল না। ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না।” তিনি আরও জানান, রিসোর্টটি মাত্র সাত-আট মাস আগে তৈরি করা হয়েছিল এবং এর মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল বলে জানা গেছে।

এখন পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন—ঢাকার ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ। শনাক্ত হওয়া এই ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন নারী এবং একজন শিশু।

এই অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে ছয়জন বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের মধ্যে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১) এবং তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯)-ও রয়েছেন।