কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে অবস্থিত টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে, যাদের সবাই ঢাকার বাসিন্দা। স্বজনদের এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পেয়ে রাজধানী ঢাকা থেকে বিমানে কক্সবাজারে ছুটে আসেন আমিনুল ইসলাম।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা দুইটার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় অত্যন্ত আবেগাপ্লুত ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমার ভাগনে–ভাগনি ছয়জন মারা গেছে। আমার তিন বোন। আমি একমাত্র ভাই। আমার তিন বোনের পাঁচ ছেলে–মেয়ে মারা গেছে। বড় ভাগনিরও বাচ্চা মারা গেছে। ওরা ৯ জন বেড়াতে এসেছিল। তিনজন বেঁচে আছে।”

আমিনুল জানান, গত বৃহস্পতিবার তারা কক্সবাজার ভ্রমণে এসেছিলেন। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাদের সবার ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। তিনি আরও বলেন, “আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সবার ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। গত বৃহস্পতিবার তারা বেড়াতে কক্সবাজার এসেছিল। সকালে যখন আগুন লেগেছিল, তখন তাদের দুজন বাইরে ছিল। এরপর তারাই আমাকে খবর দিয়েছে।”

ফায়ার সার্ভিসের কক্সবাজারের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে, এই অগ্নিকাণ্ডে মোট ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে শনাক্ত হওয়া ছয়জন হলেন— ঢাকার ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সি ফায়িজান আহম্মেদ। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন নারী এবং একজন শিশু রয়েছেন।

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় দগ্ধ হয়ে বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ৬ জন। আহতদের মধ্যে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১) এবং তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯)-ও রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগুনের খবর পাওয়ার পর দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, শনিবার সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসে আগুনের খবর দেওয়া হয়। সকাল ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। উদ্ধারকাজের সময় রিসোর্টের তিনতলার দুটি শৌচাগার থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সমুদ্রতীরের তীব্র বাতাসের কারণে কাঠের তৈরি এই রিসোর্টটিতে আগুন অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, “এ ধরনের স্থাপনায় অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থাকা প্রয়োজন। কিন্তু রিসোর্টটিতে এসবের কিছুই ছিল না। রিসোর্টটির ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না। মাত্র সাত থেকে আট মাস আগে এটি তৈরি করা হয়েছিল। জায়গাটির মালিকানা নিয়েও বিরোধ ছিল।”