কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটোয়ারটেক সৈকতের পাশে অবস্থিত কাঠের তৈরি তিনতলা ‘টুপটুপ রিসোর্ট’ আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আজ শনিবার সকালে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনের সূত্রপাত ঠিক কখন হয়েছিল, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। তবে তাঁদের ধারণা, ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করার বেশ কিছুক্ষণ আগেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, আজ সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসে আগুনের খবর দেওয়া হয়। সকাল আটটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এই অগ্নিকাণ্ডে তিনতলার দুটি শৌচাগারে আটকা পড়ে চারজন ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “সমুদ্রের তীব্র বাতাসে কাঠের রিসোর্টে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের স্থাপনায় বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, অগ্নিসংকেত, হোস পাইপ ও অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা থাকা দরকার। কিন্তু রিসোর্টটিতে এগুলোর কিছুই ছিল না। ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না।” তিনি আরও জানান, রিসোর্টটি মাত্র সাত-আট মাস আগে তৈরি করা হয়েছিল এবং জায়গাটির মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল।
মৃতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন— ঢাকার ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ। শনাক্ত হওয়া এই ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন নারী এবং একজন শিশু।
এই অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে আরও ছয়জন বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১) এবং তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯)-ও রয়েছেন।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের সহায়তায় উদ্ধারকাজ এবং আগুন নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।” ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।