কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে একটি কাঠের তৈরি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ছয়জনই একই পরিবারের সদস্য। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নূর আলমের স্ত্রী ফারিয়া কবির (৩৩), পাঁচ বছর বয়সী সন্তান ফাইজান নূর, শ্যালক নাসির উদ্দিন (২৫) এবং তিন শ্যালিকা ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩)। এছাড়া নিহত আরও একজনের নাম জানা গেছে, তিনি হলেন নাফিসতা মীম (২৭)।
চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত ওষুধ কোম্পানি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের জ্যেষ্ঠ বিপণন কর্মকর্তা নূর আলম মোবাইলে মুক্তকণ্ঠকে জানান, তার স্ত্রী বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তা সত্ত্বেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য তারা কক্সবাজার বেড়াতে যান। নূর আলম বলেন, “স্ত্রী বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ। তারপরও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাতে কক্সবাজার বেড়াতে যান। আমি নিজেও সঙ্গে গিয়েছিলাম। কক্সবাজার পৌঁছানোর পর অফিশিয়াল কাজের প্রয়োজন হওয়ায় আমি শুক্রবার চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসি। আজ শনিবার সকালে গণমাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের খবর জানার পর খোঁজ নিয়ে দেখি নিহত ছয়জনই আমার পরিবারের সদস্য।”
নূর আলমের বাড়ি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বড়কোঠা ইউনিয়নের গাজিরপাড় গ্রামে। তবে পেশাগত কারণে গত আট বছর ধরে তিনি চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত এবং সপরিবারে শহরের দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ার একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান করছিলেন। তিনি আরও জানান, গত বুধবার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে তিনি প্রথমে ঢাকা যান এবং সেখান থেকে বৃহস্পতিবার শ্যালক ও শ্যালিকাসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে কক্সবাজার বেড়াতে যান।
নিহতদের মধ্যে নূর আলমের পরিবার বাদে বাকিরা রাজধানীর বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তবে নিহত বাকি তিনজনের নাম ও পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
এই অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে আরও ছয়জন বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের পরিচয় পাওয়া গেছে—মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), ইসমাইল হোসেন মাসুদ (৩০), তাঁর স্ত্রী মেহেরুন নেছা (২৭), মান্নান (৩৪) ও সামিদা (৩২)।
আহত ইসমাইল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী মেহেরুন নেছা হলেন ফারিয়া কবিরের মামা ও মামি। তাঁদের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দক্ষিণ ঠেটালিয়া গ্রামে। হতাহতদের স্বজন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আহাদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আহাদ জানান, শনিবার সকালে তাঁদের সবারই ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় সবাই শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, “এ ঘটনায় সবাই শোকে বিহ্বল। একসঙ্গে এতগুলো স্বজনের মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়ক সংলগ্ন ‘টুকটুক রিসোর্টে’ আগুন ধরে যায়। খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
বেলা সোয়া দুইটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কক্সবাজারের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন মুক্তকণ্ঠকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ভেতরে আরও মরদেহ থাকতে পারে, তাই উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।