কক্সবাজারে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তা নূর আলম। কিন্তু সেই আনন্দময় ভ্রমণ তার জীবনে নেমে এনেছে গভীর শোক। কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী, একমাত্র সন্তান, তিন শ্যালিকা ও এক শ্যালককে হারিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে কাঠের তৈরি ওই রিসোর্টে আগুন লাগার ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে নূর আলমের পরিবারের ছয়জন রয়েছেন।
নিহতরা হলেন নূর আলমের স্ত্রী ফারিয়া কবির (৩৩), সাত বছর বয়সি ছেলে ফাইজান নূর, শ্যালক নাসির উদ্দিন (২৫) এবং তিন শ্যালিকা ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩)। নিহত অন্য একজনের নাম নাফিসতা মীম (২৭)।
নূর আলম বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বাসিন্দা। চাকরির সুবাদে স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় প্রায় আট বছর ধরে বসবাস করছিলেন তিনি। তিনি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চুয়াডাঙ্গা কার্যালয়ে মেডিকেল প্রমোশন অফিসার (এমপিও) হিসেবে কর্মরত।
শনিবার সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে নূর আলম জানান, গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) স্ত্রী ফারিয়া কবির, সাত বছর বয়সি ছেলে ফাইজান নূর, তিন শ্যালিকা ও এক শ্যালককে নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে যান তিনি। অফিসের জরুরি কাজ থাকায় শুক্রবার পরিবারের সদস্যদের সেখানে রেখে চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসেন। শনিবার তাদের কক্সবাজার থেকে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সকালে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের অন্য পাঁচ সদস্যের মৃত্যুর খবর পান তিনি। খবর পাওয়ার পর ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
তিনি বলেন, ‘কীভাবে আগুন লাগল, জানি না। আমার স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের ছয়জন মারা গেছে। এর বেশি কিছু বলার মতো অবস্থায় নেই।’
তিনি জানান, তার একমাত্র ছেলে ফাইজান নূর চুয়াডাঙ্গার প্রদীপন মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এদিকে শনিবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ায় নূর আলমের ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখা যায়, তৃতীয়তলার কক্ষটি তালাবদ্ধ। স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে যে বাসায় আট বছর ধরে সংসার করছিলেন নূর আলম, তাদের অনুপস্থিতিতে সেই বাসা এখন নিস্তব্ধ।
বাড়ির মালিক হারুন অর রশিদ বলেন, নূর আলম প্রায় আট বছর ধরে তার বাড়ির তৃতীয়তলায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকেন। তারা খুবই ভালো মানুষ। অগ্নিকাণ্ডের খবর শোনার পর নূর আলম ঢাকায় শ্বশুরবাড়িতে চলে গেছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক।