ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির এক কর্মীকে বোরকা পরিয়ে পরিকল্পিতভাবে ‘নাটক’ সাজানোর গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন।

প্রার্থীর দাবি, গত বুধবার রাতে রাজাগাঁও ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে বিএনপির পক্ষ থেকে এক পুরুষ কর্মীকে বোরকা পরিয়ে এই নাটক সাজানো হয়েছে। এই ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, যে কারণে তাকে তারা পুলিশে সোপর্দ করেননি। তবে সামগ্রিক বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে পৌর শহরের হাজীপাড়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে নিজের ভোট প্রদান শেষে গণমাধ্যমের সামনে তিনি বিস্তারিত জানান। দেলাওয়ার হোসেন বলেন, “ওই ব্যক্তিকে বোরকা পরিয়ে তাকে দিয়ে ভোট চাওয়ার অভিনয় করিয়েছে বিএনপি। পরে টিকটকের মতো তার বিভিন্ন ভিডিও করে আনন্দ-উল্লাস করা হয়।”

এই ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। সেই সাথে তিনি বলেন, “ঠাকুরগাঁও-১ আসনের জনগনের মধ্যে একটা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ধারণা তৈরি করা দরকার।”

অন্যদিকে, নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। ভোটকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। পাশাপাশি যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্ট্রাইকিং ফোর্স ও রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

নির্বাচন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী এলাকার মোট ১৮৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে।

এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৩ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ২১৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন। এছাড়া পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন মোট ২৮৭ জন; যাদের মধ্যে পুরুষ ২৪৯ জন এবং নারী ৩৮ জন।

উল্লেখ্য, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে গত ২৯ সেপ্টেম্বর এই আসনে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তারা হলেন বিএনপির মির্জা ফয়সল আমিন ও মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম, মো. আবদুল আলীম নিজামী এবং হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।

পরবর্তীতে ৫ অক্টোবর দলীয় সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন বিএনপির মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ। ফলে বর্তমানে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন পাঁচজন প্রার্থী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই লড়াইয়ে বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ও জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেনের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২ লাখ ২৮ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৮৪ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম পেয়েছিলেন ৩ হাজার ৮৩৩ ভোট। পরবর্তীতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় এই আসনটি শূন্য হয় এবং সেই শূন্য আসনে এখন উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।