ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের প্রাক্কালে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। তার দাবি, নির্বাচনের আগের রাতে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, প্রচার কার্যক্রমে বাধা প্রদান এবং অর্থ প্রদানের মাধ্যমে ভোট কেনার চেষ্টা করা হয়েছে।

মির্জা ফয়সল আমীনের অভিযোগ অনুযায়ী, জামায়াতের প্রার্থী এবং তার সমর্থকেরা বিশেষ করে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের ভোটারদের লক্ষ্য করে হুমকি দিচ্ছেন যেন তারা ভোটকেন্দ্রে না যান। তিনি দাবি করেন, প্রকাশ্যে ভোটারদের চোখ উপড়ে ফেলা এবং হাত ভেঙে দেওয়ার মতো চরম হুমকিমূলক কথা বলা হচ্ছে। এই সব অনিয়মের প্রমাণসহ রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে জানান বিএনপির এই প্রার্থী।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন মির্জা ফয়সল আমীন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ, অশ্লীল ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে তার জবাব এবং যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সেই অভিযোগগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে বলে তিনি জানান।

ফয়সল আমীনের মতে, এবারের নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জামায়াতের প্রার্থী ও তার সমর্থকেরা মিথ্যা অভিযোগের আশ্রয় নিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছেন বলে তিনি মনে করেন।

জামায়াতের প্রার্থীর টাকা দিয়ে ভোট কেনার আশঙ্কা এবং ভোটার স্লিপের সঙ্গে অর্থ বিতরণের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, “অভিযোগের প্রমাণ থাকলে তা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো উচিত।” বিএনপি এ ধরনের কোনো অনৈতিক কাজ করে না বলেও দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি জানান, জামায়াতের এক কর্মীকে বিরিয়ানির প্যাকেটের সঙ্গে ভোটার স্লিপ বিতরণের অভিযোগে আটক করা হয়েছে।

নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, “গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের মতামতকে সম্মান করতে হয়।” তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, ফলাফল মেনে না নিলে তা গণতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসের প্রশ্ন তোলে।

আসনের মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের ঝুঁকি প্রসঙ্গে বিএনপির প্রার্থী বলেন, “আমাদের বিবেচনায় কোনো কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ নয়, আবার সব কেন্দ্রেই ঝুঁকির আশঙ্কা থাকতে পারে।” তিনি জানান, যেসব কেন্দ্রে সমস্যা হতে পারে বলে তারা মনে করেছেন, সেগুলোর একটি তালিকা নির্বাচন কমিশনকে প্রদান করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সেই তালিকায় কতটি কেন্দ্রের নাম রয়েছে, তা তিনি জানাতে পারেননি।

সবশেষে ঠাকুরগাঁও শহরের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চমৎকার বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফয়সল আমীন। পাশাপাশি কোনো অভিযোগ জনসমক্ষে প্রচার করার আগে তা যথাযথভাবে যাচাই করে নেওয়ার জন্য তিনি সবাইকে আহ্বান জানান।