জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন অভিযোগ করেছেন যে, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সাধারণ মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নাগরিকদের এখন হতাশা প্রকাশের অধিকারের জন্যও লড়াই করতে হচ্ছে।
আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। ময়মনসিংহের নারী ব্যবসায়ী সাথী আক্তারের (৩০) মুক্তির দাবিতে এনসিপির নারী সংগঠন 'জাতীয় নারীশক্তি' এই কর্মসূচির আয়োজন করে। সেখানেই কথা বলেন আখতার হোসেন।
ঘটনাটি ছিল এমন যে, গত রোববার সাথী আক্তার ফেসবুকে দুটি লাইভ ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ওই লাইভ ভিডিওর একপর্যায়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী।’ এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে বিচার দাবি করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেদিন রাতে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয় এবং পরবর্তীতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাথী আক্তার জামিন পেয়েছেন।
মানববন্ধনে আখতার হোসেন মন্তব্য করেন যে, সরকারের সমালোচনা করার কারণে কাউকে গ্রেপ্তার করা যায় না। তিনি বলেন, সাথী লাইভে এসে বিএনপিকে ভোট দেওয়ার পর নিজের অভিজ্ঞতা ও হতাশার কথা বলেছিলেন। এ কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখনই জানিয়েছে যে সাথীর বক্তব্যে সরকারের সমালোচনামূলক কিছু পাওয়া যায়নি, তাহলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলো কেন?
আখতার হোসেন আরও বলেন, আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) শাসনামলে ভোটের অধিকারের দাবি উঠেছিল। আগে বাক্স্বাধীনতা, খাদ্য ও নিরাপত্তার অধিকার চাইতে হতো। এখন বিএনপির আমলে হতাশা প্রকাশের অধিকারও চাইতে হচ্ছে। বিএনপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে কি না, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে কি না, চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই বাড়ছে কি না—এসব বিষয়ে নাগরিকদের সমালোচনা ও আত্মসমালোচনার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। কিন্তু সরকার মানুষকে নিজেদের মতো করে কথা বলতে বাধ্য করতে চায়।
জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য মাহমুদা আলম মিতু মানববন্ধনে তাঁর বক্তব্যে বলেন, কোনো সরকার জনসমর্থন হারিয়ে ফেললে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে। হাসিনার আমলে এমনটা তাঁরা দেখেছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতিমধ্যে জনসমর্থন হারিয়েছেন। এমনকি ধানের শীষে ভোট দেওয়া মানুষও এখন বিরক্ত। এ কারণে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।
জাতীয় নারীশক্তির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে নিয়ে তৈরি করা একটি মিম শেয়ার করে লিখেছিলেন, তাঁকে নিয়ে হওয়া যাবতীয় সমালোচনা তিনি উপভোগ করেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, তাঁর আশপাশের লোকজন তা উপভোগ করেন না।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী জাতীয় নারীশক্তির নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল, ‘নারীর কণ্ঠরোধ নয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চাই’, ‘নারীর নিরাপত্তা কোনো অনুগ্রহ নয়, অধিকার’, ‘নারীর নিরাপত্তা চাই’, ‘মতপ্রকাশ কোনো অপরাধ নয়’, ‘সাইবার আইনের সংশোধনীসহ সব কালাকানুন বাতিল কর’।