জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নারী সংগঠন 'জাতীয় নারীশক্তি'র কেন্দ্রীয় কমিটিতে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করার মাত্র সাড়ে সাত মাসের মাথায় বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই সাংগঠনিক পরিবর্তনের ফলে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে মনিরা শারমিনকে।

নতুন বিন্যাসে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এনসিপির সংসদ সদস্য মাহমুদা আলম মিতু, যিনি পূর্ববর্তী কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অন্যদিকে, সদস্যসচিবের পদে নিযুক্ত হয়েছেন নুসরাত তাবাসসুম। তিনি আগের কমিটিতে তৃতীয় শীর্ষ পদ অর্থাৎ মুখ্য সংগঠকের দায়িত্বে ছিলেন।

আজ রোববার দুপুর সোয়া ১২টার পর এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে নারীশক্তির তিন সদস্যের একটি নতুন আংশিক কমিটি প্রকাশ করা হয়। এই আংশিক কমিটিতে এনসিপির সংরক্ষিত নারী আসনের দুই সংসদ সদস্য মাহমুদা ও নুসরাতের পাশাপাশি মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মনজিলা ঝুমাকে।

উল্লেখ্য যে, গত ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছিল জাতীয় নারীশক্তি। শুরুর দিকে সংগঠনের আহ্বায়ক হিসেবে মনিরার নাম, সদস্যসচিব হিসেবে মাহমুদার নাম এবং মুখ্য সংগঠক হিসেবে নুসরাতের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে গত ১৮ এপ্রিল ৫৩ সদস্যের একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়, যা আজ বাতিল করা হলো। এই সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশ অনুযায়ী জাতীয় নারীশক্তির বিদ্যমান কমিটি বাতিল করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি (আংশিক) অনুমোদন করা হয়েছে। এই নতুন কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত এপ্রিলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য এনসিপি প্রথমে মনিরা ও মাহমুদার নাম চূড়ান্ত করেছিল। তবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বাছাই প্রক্রিয়ায় মনিরার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। নুসরাত তাবাসসুমও সংরক্ষিত আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন, কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পরে জমা দেওয়ার কারণে প্রথমে তা গ্রহণ করা হয়নি। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে ইসি তাঁর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে এবং শেষ পর্যন্ত তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

নারীশক্তির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে বাদ পড়লেও মনিরা শারমিন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক পদে বহাল রয়েছেন। মাহমুদা ও নুসরাতও এনসিপিতে একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া নতুন মুখ্য সংগঠক মনজিলা বর্তমানে এনসিপির স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মনিরা নিজেই সম্প্রতি এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে নারীশক্তির দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সূত্রের দাবি, মনিরার সঙ্গে মাহমুদা ও নুসরাতের সমন্বয়ের অভাব ছিল, যার ফলে সংগঠনের কার্যক্রমে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল।

এই রদবদলের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মনিরা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “এটি দলের সিদ্ধান্ত। দলের পক্ষ থেকে আমাকে হয়তো অন্য কোনো দায়িত্বের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে। আমাদের দুজন নারী সংসদ সদস্য নারীশক্তির শীর্ষ নেতৃত্বে এসেছেন। তাঁদের প্রতি আমার শুভকামনা থাকবে।”