জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বড় ধরনের বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করতে এবার উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

গতকাল মঙ্গলবার দেশের জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে এক বিশাল বিপর্যয় দেখা দেয়, যার ফলে দেশের একটি বড় অংশ দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। এই ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে গতকালই পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। তবে এখন বিদ্যুৎ বিভাগ নিজেই একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আজ বুধবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক আদেশে জানানো হয়েছে, জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণ উদ্‌ঘাটন ও সুপারিশ প্রদানের লক্ষ্যে অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী রেজাকে প্রধান করে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য কমিটিকে দুই সপ্তাহের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গতকাল রাতে পাওয়ার গ্রিডের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, “বিদ্যুৎ–বিভ্রাটের প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনসহ ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে করণীয় সম্পর্কে মতামত ও সুপারিশমালা প্রণয়নে সঞ্চালন–২–এর প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ এবাদুল্লাহ হায়দার আলীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।” ওই কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গতকাল বেলা পৌনে একটার দিকে হঠাৎ করে ঢাকার পূর্বাঞ্চল এবং চট্টগ্রামের একাংশে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই বিপর্যয়ের পরপরই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বেশ কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বিপর্যয়ের প্রায় দুই ঘণ্টা পর থেকে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু হতে শুরু করে। ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি পায় এবং রাতের দিকে সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে এর আগেও জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর বেলা ২টা ৫ মিনিটে পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডে বিপর্যয় শুরু হলে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহসহ দেশের অধিকাংশ এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিল। আরও পেছনে তাকালে দেখা যায়, ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের ফলে সারা দেশে প্রায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।