জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা বর্তমানে সময়ের এক বড় দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটানো এবং শক্তির অপচয় রোধ করে জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলোকে আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞদের নতুন ও সৃজনশীল চিন্তাধারাকে কাজে লাগাতে 'স্ফুরণ' নামের একটি বিশেষ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

বাংলাদেশের টেকসই জ্বালানির এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ এই ব্যতিক্রমী উদ্ভাবনী আইডিয়া প্রতিযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছে। "স্ফুরণ-টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবনের সন্ধানে" শীর্ষক এই প্ল্যাটফর্মের মূল উদ্দেশ্য হলো জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে তরুণ উদ্ভাবক ও পেশাজীবীদের কাছ থেকে বাস্তবসম্মত এবং বাস্তবায়নযোগ্য ধারণা সংগ্রহ করা। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে মোট ১০ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর পাশাপাশি ওই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবহার ১৫ শতাংশ সাশ্রয় করার একটি সাহসী পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।

এই কৌশলগত ও পরিবেশগত লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কেবল নীতি প্রণয়ন বা সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, বরং তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীল চিন্তাভাবনা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। স্ফুরণ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মূলত দুটি প্রধান ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রথম ক্ষেত্রটি হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি। এখানে সোলার সমাধান, স্মার্ট সোলার সেচ, অফ-গ্রিড সিস্টেম, গ্রিড আধুনিকায়ন এবং এনার্জি স্টোরেজ প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া উইন্ড এনার্জি, দেশীয় সোলার প্যানেল ও ইনভার্টার উৎপাদন বৃদ্ধির কৌশল এবং অ্যাগ্রি-পিভি বা ভাসমান সোলারের মতো জমিসাশ্রয়ী প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিযোগীরা তাদের প্রস্তাব জমা দিতে পারবেন।

দ্বিতীয় বিভাগটি সাজানো হয়েছে জ্বালানি দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে। এই ক্যাটাগরিতে ক্যাম্পাস বা কমিউনিটি পর্যায়ে বিদ্যুৎ–সাশ্রয়ী উদ্যোগ, আধুনিক প্রযুক্তি, ক্লিন কুকিং সিস্টেম এবং জ্বালানি দক্ষতা পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন ডিজিটাল টুল নিয়ে কাজ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি বৈদ্যুতিক যান ও এর চার্জিং পরিকাঠামো, ভবনে জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি, ডিমান্ড সাইড এনার্জি ম্যানেজমেন্ট, বিদ্যুৎ–সাশ্রয়ী কুলিং পদ্ধতি, রেট্রোফিট সমাধান এবং আচরণগত বা নীতিসংক্রান্ত প্রস্তাবনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

প্রতিযোগিতাটি মূলত দুটি গ্রুপে ভাগ করে পরিচালনা করা হচ্ছে। গ্রুপ এ-তে শিক্ষার্থী বিভাগের সুযোগ রাখা হয়েছে, যেখানে যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো বিভাগের দুজন সদস্যের একটি দল হিসেবে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, গ্রুপ বি রাখা হয়েছে পেশাজীবীদের জন্য। এখানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের যেকোনো কর্মকর্তা বা গবেষক এককভাবে তাদের উদ্ভাবনী ধারণা জমা দিতে পারবেন। আগ্রহী প্রতিযোগী বা দলকে তাদের প্রস্তাবিত ধারণার ওপর সর্বোচ্চ ১ হাজার শব্দের একটি কনসেপ্ট নোট জমা দিতে হবে। এর পাশাপাশি ধারণার মূল উদ্দেশ্য, বাস্তবায়নযোগ্যতা এবং সম্ভাব্য প্রভাব সংক্ষেপে তুলে ধরে একটি ৩ মিনিটের পিচ ভিডিও জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই আয়োজনে অংশগ্রহণের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর তারিখের মধ্যে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ তৈরিতে দেশের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তরুণ ও গবেষকদের অভিজ্ঞতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তাকে জাতীয় পর্যায়ে দৃশ্যমান করার এক অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে এই আয়োজন।