রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালকের কার্যালয়ে ঢুকে তাঁর কক্ষের ভেতরেই তাঁকে মারধর করা হয়েছে। আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।

সংস্থাটির পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকি অভিযোগ করে জানিয়েছেন যে, বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কর্মীরা মব সৃষ্টি করে এই হামলাটি চালিয়েছে।

অধ্যাপক কাজী আহমেদকে মারধরের একটি ভিডিও ফুটেজ মুক্তকণ্ঠের হাতে এসেছে। উক্ত ভিডিওতে দেখা যায়, কাজী আহমেদ তাঁর নিজের কক্ষে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে ৮-৯ জন লোক তাঁর কক্ষে প্রবেশ করেন। তাঁরা কাজী আহমেদকে তাঁর চেয়ার থেকে টেনে উঠিয়ে নিয়ে মারধর শুরু করেন।

উল্লেখ্য, আইইডিসিআর সরকারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। দেশের রোগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় গবেষণা এবং সতর্কবার্তা প্রদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এছাড়া আইইডিসিআর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি)-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে থাকে।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কাজী আহমেদকে আইইডিসিআরের সর্বোচ্চ পদ অর্থাৎ পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সম্প্রতি তিনি হামের টিকার কার্যকারিতা নিয়ে একটি গবেষণা সম্পন্ন করেছেন।

এদিকে ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ মুক্তকণ্ঠের কাছে এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওর (কাজী আহমেদ) ও তো কিছু দোষ আছে।’

কাজী আহমেদের দোষ কী, তা জানতে চাওয়া হলে তিনি মুঠোফোনে থাকা একটি ছবি দেখিয়ে প্রশ্ন করেন, এই সরকারের সময় কাজী আহমেদ কি করে মীরজাদী সাবরিনা ফ্লোরার সঙ্গে তাঁর (কাজী আহমেদ) নিজের অফিসে বৈঠক করে?

উল্লেখ্য, জনস্বাস্থ্যবিদ মীরজাদী সাবরিনা ফ্লোরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আইইডিসিআরের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত ব্রিফিং করার মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান। পরবর্তীতে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দায়িত্ব লাভ করেন।

মারধরের সময় কাজী আহমেদের কক্ষে উপস্থিত থাকা একজন জনস্বাস্থ্যবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে মুক্তকণ্ঠকে জানান, যাঁরা এই হামলা চালিয়েছেন, তাঁদের তিনি এর আগে কখনো আইইডিসিআরে দেখেননি।

অন্যদিকে, জনস্বাস্থ্যবিদ ও আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “আইইডিসিআরে নিজের কক্ষে পরিচালককে মারধর অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। এ ঘটনার তদন্ত হতে হবে, দোষীদের শাস্তি দিতে হবে।”