বর্তমান বিশ্বের আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের সামনে যে কয়েকটি মারাত্মক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ প্রকট হয়ে উঠেছে, তার মধ্যে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) অন্যতম প্রধান সমস্যা। চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিকের যত্রতত্র এবং অপরিকল্পিত ব্যবহারের ফলে রোগজীবাণুগুলো ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তুলছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে মানবসভ্যতা এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকটের সম্মুখীন হতে পারে।

এই নীরব মহামারি সম্পর্কে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সঠিক জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রতি বছর অক্টোবরে বিশ্ব অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল সচেতনতা সপ্তাহ পালন করা হয়। সেই বিশেষ আয়োজনেরই অংশ হিসেবে এবার আয়োজন করা হচ্ছে 'ন্যাশনাল এএমআর ফেস্ট ২০২৬'।

দেশের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অধ্যাপক জাকির হোসেন হাবীব বলেন, ‘এ উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে আয়োজিত হচ্ছে দেশব্যাপী একটি কুইজ প্রতিযোগিতা। সবাই এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন। সবার মধ্যে জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আমরা এই আয়োজন করছি।’

শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকেরা যেন অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠেন—মূলত এই লক্ষ্যেই এই প্রতিযোগিতার পরিকল্পনা করা হয়েছে। রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) অধীন পরিচালিত সেক্টরাল কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (হিউম্যান হেলথ) এবং ন্যাশনাল রেফারেন্স ল্যাবরেটরি (এনআরএল) ফর এএমআর সার্ভিল্যান্স যৌথভাবে এই কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। পুরো প্রক্রিয়ায় কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

কুইজের ধরন ও নিয়মাবলি

দেশব্যাপী এই কুইজ প্রতিযোগিতাটি মূলত দুটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপটি হবে অনলাইনভিত্তিক প্রাথমিক রাউন্ড এবং দ্বিতীয় ধাপটি হবে সশরীর অংশগ্রহণের মাধ্যমে আয়োজিত চূড়ান্ত পর্ব। প্রাথমিক রাউন্ডে যারা সেরা পারফরম্যান্স করবেন, সেই প্রতিযোগীদের ইন-পারসন ফাইনাল রাউন্ডে আমন্ত্রণ জানানো হবে। ২০ অক্টোবর বেলা তিনটায় প্রতিযোগিতার প্রাথমিক অনলাইন রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে।

অনলাইন কুইজ পর্বে অংশগ্রহণের জন্য রেজিস্ট্রেশন চলবে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত। বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সঠিক তথ্য প্রদান করে অনলাইনে নিজেদের নিবন্ধন নিশ্চিত করতে পারবেন। নিবন্ধনের জন্য নির্দিষ্ট অনলাইন ঠিকানা ব্যবহার করতে হবে।

কুইজের বিষয়বস্তু ও মূল্যায়ন

নির্ধারিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হবে অনলাইন প্রাথমিক রাউন্ডের কুইজটি, যেখানে মোট ৪০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্ন থাকবে। পুরো কুইজটি সম্পন্ন করার জন্য প্রতিযোগীরা ২০ মিনিট সময় পাবেন। প্রশ্নগুলো এএমআর–সংশ্লিষ্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক স্টুয়ার্ডশিপ, ইনফেকশন প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল, ওয়ান হেলথ, সার্ভিল্যান্স, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, বিভিন্ন ক্লিনিক্যাল বিষয়, বিশ্ব অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল সচেতনতা সপ্তাহ–সংক্রান্ত বিষয় এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঘটনা।

প্রতিটি প্রশ্নের মান নির্ধারণ করা হয়েছে ২.৫ নম্বর এবং প্রতিটি প্রশ্নে পাঁচটি করে স্টেম বা শাখা থাকবে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ০.৫ নম্বর যোগ হবে, তবে প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা হবে (নেগেটিভ মার্কিং)। প্রাথমিক রাউন্ডের শীর্ষস্থানীয় প্রতিযোগীরা চূড়ান্ত পর্বের লড়াইয়ে অংশ নেবেন। এএমআর সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য আইইডিসিআর থেকে প্রকাশিত বই পড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পুরস্কার ও সম্মাননা

প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের জন্য রাখা হয়েছে আকর্ষণীয় পুরস্কার ও সম্মাননা। চূড়ান্ত পর্বে বিজয়ী সেরা তিনজন প্রতিভাবান প্রতিযোগী—চ্যাম্পিয়ন, প্রথম রানারআপ ও দ্বিতীয় রানারআপ হিসেবে বিশেষ পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করবেন। এছাড়া চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণকারী সকল যোগ্য ফাইনালিস্টদের জন্য থাকবে সার্টিফিকেট অব অ্যাচিভমেন্ট বা কৃতিত্বের সনদ।