একদিকে তারকাখেলোয়াড়দের স্নায়ুচাপের এক জমজমাট লড়াই, অন্যদিকে উমেহ্লা মারমার চোখধাঁধানো একক আধিপত্য—এমন দুই বিপরীত চিত্র ফুটে উঠেছে মুক্তকণ্ঠ-স্টার নিউজ নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬-এর প্রথম দুটি কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে।

আজ সাভারের ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ঠাকুরগাঁওয়ের রাঙ্গাটুঙ্গী ফুটবল একাডেমিকে ১-০ গোলে পরাজিত করে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালের প্রথম দল হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে টাঙ্গাইলের শক্তিশালী মরহুম ফরহাদ হোসেন তালুকদার ফুটবল একাডেমি। অন্যদিকে, দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাচ্ছন্দ্যেই সেমিফাইনালের টিকিট সংগ্রহ করেছে পাহাড়ের শক্তিশালী দল রাঙামাটির সুইহলামং ফুটবল একাডেমি। তাদের ঝোড়ো আক্রমণের সামনে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে মাঠ ছেড়েছে কুষ্টিয়া ফুটবল একাডেমি।

দিনের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে দুই দলেরই তারকা খেলোয়াড়দের উপস্থিতিতে শুরু থেকেই মাঠ ছিল আলোয় ঝলমলে। ঠাকুরগাঁওয়ের রাঙ্গাটুঙ্গী ফুটবল একাডেমির মূল অনুপ্রেরণা হিসেবে মাঠে ছিলেন সাফজয়ী অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড সানজিদা আক্তার। এই ম্যাচে তাঁর সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন আরেক তারকা খেলোয়াড় স্বপ্না রানী।

সানজিদা ও স্বপ্নার নৈপুণ্যের ওপর ভর করে সেমিফাইনালের স্বপ্ন বুনেছিল ঠাকুরগাঁও। তবে তাদের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় সাফজয়ী একাধিক ফুটবলারে সমৃদ্ধ টাঙ্গাইলের মরহুম ফরহাদ হোসেন তালুকদার ফুটবল একাডেমি। এই দলে কৃষ্ণা রানী সরকার, মাছুরা পারভীন, নিলুফা ইয়াসমিন ও মার্জিয়ার পাশাপাশি নতুন করে যুক্ত হয়েছিলেন সাফজয়ী মাতসুশিমা সুমাইয়া।

মাঠের এই তারকা লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত পরাজয় মেনে নিয়ে বিদায় নিতে হয় সানজিদা ও স্বপ্নাদের। আর প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে টাঙ্গাইল। অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই ম্যাচে মরহুম ফরহাদ হোসেন তালুকদার ফুটবল একাডেমির হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন রাইট ব্যাক জোসনা।

ম্যাচের ১৩তম মিনিটে সুমাইয়ার নেওয়া কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করে দলকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন বয়সভিত্তিক জাতীয় দলের সদস্য জোসনা। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রাখতে সক্ষম হয় টাঙ্গাইলের দলটি। অসাধারণ নৈপুণ্যের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতে নেন জোসনা।

প্রথম ম্যাচের লড়াইয়ের পর দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে দেখা যায় রাঙামাটির সুইহলামং ফুটবল একাডেমির গোল উৎসব। কুষ্টিয়া ফুটবল একাডেমিকে ম্যাচে কোনো সুযোগই দেয়নি পাহাড়ের এই দলটি। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে মাত্র ৪ মিনিটে মামনি চাকমার গোলে লিড নেয় রাঙামাটি। এর ঠিক সাত মিনিট পর ব্যবধান ২-০ করেন থুইক্রইমা মারমা।

এরপরই শুরু হয় সর্বশেষ এশিয়ান গেমসে জাতীয় দলের বাইরে থাকা ফরোয়ার্ড উমেহ্লা মারমার গোল উৎসব। ২৯, ৩৫ এবং ৩৯—মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন উমেহ্লা। টুর্নামেন্টে এটি তাঁর দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক; এর আগে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ফাইনালে একবার হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি।

পুরো ম্যাচজুড়ে অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণে টুর্নামেন্টে তৃতীয়বারের মতো ম্যাচসেরার পুরস্কার পান উমেহ্লা। এর আগে আঞ্চলিক সেমিফাইনালের যৌথ ম্যাচসেরা এবং আঞ্চলিক ফাইনালের একক ম্যাচসেরা হয়েছিলেন এই তরুণী। জাতীয় দলে অভিষিক্ত মামনি চাকমার সঙ্গে তাঁর দারুণ বোঝাপড়া সুইহলামং একাডেমির আক্রমণভাগকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

চার ম্যাচে উমেহ্লার ব্যক্তিগত গোল সংখ্যা এখন ৮টি। দলকে সেমিফাইনালের মঞ্চে পৌঁছে দিয়ে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে রোমাঞ্চিত উমেহ্লা সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “তাদের চমৎকার সহযোগিতার কারণেই আমি আরেকটি হ্যাটট্রিক করতে পেরেছি। সামনে আরও গোল করে দলকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে চাই। আমাদের লক্ষ্য এই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়া।”

উমেহ্লার হাতে ম্যাচসেরার পুরস্কার তুলে দেন জাতীয় নারী দলের সাবেক ফরোয়ার্ড ও কোচ মাহমুদা শরিফা। এর আগে প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাফজয়ী নারী দলের কোচ গোলাম রব্বানী, সাফজয়ী নারী দলের সহকারী কোচ মাহবুবুর রহমান ও মাহমুদা আক্তার।