সৌদি আরবের দুটি ভিন্ন অঞ্চল লক্ষ্য করে ইয়েমেনের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শনাক্ত করে সেগুলো ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যকার সংঘাত আরও তীব্র হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে আজ মঙ্গলবার জোটের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

জোটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের ইস্টার্ন প্রভিন্সের দিকে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের দিকে চারটি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।

এই অভিযান সম্পর্কে জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সন্ত্রাসী হুতি মিলিশিয়াদের (সৌদি আরবের) ইস্টার্ন প্রভিন্সের দিকে ছোড়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে।’

এদিকে, সম্ভাব্য শত্রুতামূলক হামলার আশঙ্কায় সৌদি সিভিল ডিফেন্স দেশটির পূর্বাঞ্চল ও খারজ গভর্নরেটে আগাম সতর্কতা জারি করেছিল। তবে পরবর্তীতে তারা নিশ্চিত করে যে, ওই দুই এলাকাতেই এখন বিপদ কেটে গেছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত মাসে হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কৌশলগত এলাকাগুলো দখল করে বাব আল-মানদেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়ার পর সৌদি আরব তাদের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা জোরদার করেছে। বাব আল–মানদেব প্রণালির ভেতরে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ দখলের ফলে এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ অনেকাংশেই হুতিদের হাতে চলে গেছে বলে মনে করা হয়।

উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জন্য তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে এই প্রণালিটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক নৌপথ হিসেবে বিবেচিত। এটি আরব উপদ্বীপের অন্য প্রান্তে অবস্থিত হরমুজ প্রণালির বিপরীত দিকে অবস্থান করছে।

এর আগে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ওই চুক্তির ফলে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এবং রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণকারী হুতিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের লড়াই অনেকটাই স্তিমিত হয়ে এসেছিল। তবে সম্প্রতি সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে দুই পক্ষ নতুন করে সংঘাত শুরু করেছে। এই উত্তেজনার সময়ে ইরানকে সমর্থন জানিয়ে হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে।