দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় দিনব্যাপী এক বিশাল জব ফেয়ার বা চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকে বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে এই মেলার কার্যক্রম শুরু হয়, যা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে বলে জানানো হয়েছে।

আয়োজক কমিটির সূত্রে জানা গেছে, এই মেলায় সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ৫০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। চাকরির প্রবল প্রত্যাশায় সকাল ৮টা থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসংখ্য প্রার্থী বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে ভিড় জমাতে শুরু করেন।

দিনাজপুর সদর উপজেলার কাঞ্চন কলোনি থেকে আসা আবির হোসেন নামের এক প্রার্থী তার জীবনসংগ্রামের কথা জানান। তিনি বলেন, “আমি এসএসসি পাস করেছি তিন বছর আগে। অভাবের কারণে আর পড়াশোনা চালানো সম্ভব হয়নি। একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করি। কিন্তু সেখানকার বেতন দিয়ে সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। চাকরির আশায় এই মেলায় এসেছি। এখন দেখা যাক, কপালে কী আছে।”

আরেক চাকরিপ্রার্থী আশা রায় তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “এ ধরনের বড় চাকরির মেলা সাধারণত মফস্বল এলাকায় দেখা যায় না। তাই একটি চাকরির আশায় এই মেলায় এসেছি।”

দ্রব্যমূল্যের চাপ ও বেকারত্বের কথা উল্লেখ করে চাকরিপ্রার্থী আকরাম হোসেন বলেন, “বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে একটা চাকরি খুব দরকার। তাই এখানে এসেছি। কিন্তু মেলায় খুব ভিড়। সিভি জমা দিতে পারব কি না, জানি না।”

মেলার আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত এই মেলায় অংশ নেওয়ার জন্য মোট ২৫ হাজার প্রার্থী অনলাইনে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। তবে যারা নিবন্ধন করতে পারেননি, তাদের জন্যও মেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ হাজারের বেশি যুবক-যুবতী এই মেলায় অংশ নিচ্ছেন বলে জানানো হয়েছে।

এই মেলার মূল উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের জন্য চাকরির ব্যবস্থা করছেন। বিএনপি সরকার যুবক-যুবতীদের চাকরি নিশ্চিত করতে কাজ করছে। বিরামপুরের চাকরির মেলায় আমাদের ধারণার চেয়েও বেশি নিবন্ধন হয়েছে।”