মফস্বল এলাকার শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে দিনাজপুরের বিরামপুরে আয়োজন করা হচ্ছে ‘জাব ফেয়ার’ বা চাকরি মেলা। আগামী ২৭ অক্টোবর বিরামপুর ডিগ্রি কলেজ মাঠে দিনব্যাপী এই বিশেষ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। জানা গেছে, এই মেলায় দেশের প্রায় ৭০টি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করবে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. তানজিনা খাতুন এই আয়োজনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, “মফস্বল এলাকার শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং স্থানীয় মেধাবীদের জাতীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। চাকরিপ্রার্থীরা মেলায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা, নিয়োগসংক্রান্ত তথ্য জানা এবং চাকরির জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন।”
দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বিশেষ উদ্যোগে এই চাকরি মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। মূলত মফস্বল এলাকার তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং বর্তমান চাকরির বাজারের সঙ্গে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বুধবার মেলাস্থল বিরামপুর ডিগ্রি কলেজ মাঠ পরিদর্শনকালে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, “মফস্বল এলাকার তরুণ-তরুণীদের মেধা ও যোগ্যতাকে জাতীয় পর্যায়ের কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। ঢাকাকেন্দ্রিক কর্মসংস্থানের সুযোগের বাইরে স্থানীয় পর্যায়েও চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে হবে। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণেরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাবেন।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “চাকরি মেলাটি সফলভাবে আয়োজন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। চাকরিপ্রার্থীরা যাতে সহজে মেলায় অংশ নিতে পারেন এবং নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, সে বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বিরামপুরে এই ধরনের চাকরি মেলার আয়োজন শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীদের জন্য সম্ভাবনার নতুন দ্বার খুলে দেবে। এর ফলে তারা নিজ এলাকাতেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাকরির সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাবেন। এতে চাকরি খোঁজার জন্য দূর-দূরান্তে যাতায়াতের খরচ ও ভোগান্তি যেমন কমবে, তেমনি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।