বান্দরবানের লামা উপজেলায় সরকারি সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একজন নেতা তার বাবার বিএনপির সদস্যপদ নবায়নের রসিদের তথ্য ও নম্বর জাল করে নিজের নামে ভুয়া রসিদ তৈরি করেছেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে সার ডিলারশিপ লাভ করেছেন।
এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ডিলারশিপ বাতিল এবং একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে লামা সদর ইউনিয়নের এম. হোসেন পাড়ার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষকদের জন্য সার ডিলার নিয়োগের কথা উল্লেখ ছিল। ওই নির্দিষ্ট ওয়ার্ডগুলো থেকে একাধিক প্রার্থী আবেদন করলেও তাদের সবাইকে বাদ দেওয়া হয়। পরিবর্তে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেরাখোলা মুসলিম পাড়ার বাসিন্দা আবুল মোতালেবকে ডিলারশিপ প্রদান করা হয়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি লামা সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
অভিযোগে আরও বিস্তারিত জানানো হয়েছে, আবুল মোতালেব তার বাবা মো. আমির হোসেনের নামে থাকা বিএনপির সদস্যপদ নবায়নের রসিদের তথ্য ও নম্বর ব্যবহার করে নিজের নামে একই বই নম্বরের আরেকটি রসিদ তৈরি করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই রসিদটির বই নম্বর ৪৩৪৭৬। এরপর তিনি বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ড আহ্বায়ক কমিটিতে স্থান পান এবং শেষ পর্যন্ত সার ডিলারশিপের জন্য মনোনীত হন। তবে রসিদ জালিয়াতি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের এই অভিযোগগুলোর স্বতন্ত্র কোনো যাচাই সম্ভব হয়নি।
এছাড়া অভিযোগকারী দাবি করেছেন, আবুল মোতালেব লামা মৌচাক সমবায় সমিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ম ও নীতিমালা পুরোপুরি উপেক্ষা করেই তাকে এই ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও তোলা হয়েছে ওই আবেদনে।
অভিযোগকারী মো. হোসেন জানান, “সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দাদের ডিলার নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত এলাকার বাইরে থেকে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও জানান, এর ফলে স্থানীয় কৃষকদের দূরবর্তী স্থান থেকে সার সংগ্রহ করতে হবে, যার জন্য অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হবে এবং প্রান্তিক কৃষকরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়বেন।
এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে আবুল মোতালেবের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে লামা উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলম বলেন, “অভিযোগটি হয়তো এসেছে, তবে এখনও আমার দেখা হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। লামা উপজেলায় আমার নিয়মিত দায়িত্ব না থাকায় বিষয়টি দেখতে কিছুটা দেরি হচ্ছে। তবে অভিযোগটি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিচ্ছি।”