বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা মুসলিম পাড়া থেকে নিখোঁজ তিন স্কুলছাত্রীকে ৫ দিন পর চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোরে অভিযান চালিয়ে পৃথক দুটি বাসা থেকে তাদেরকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত শিক্ষার্থীরা হলেন- রেশমি আক্তার (১৭), তানিয়া সুলতানা (১৩) ও হালিমাতুচ্ছ সাদিয়া (১৪)। তারা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা মুসলিম পাড়া এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিন শিক্ষার্থী এক সঙ্গে বাসা থেকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। স্বজনরা সম্ভাব্য বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাননি। পরে স্বজনেরা লামা থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করে একটি সাধারণ ডায়েরিও করেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে অনুসন্ধানে পুলিশ জানতে পারেন, নিখোঁজ তিন ছাত্রীর সর্বশেষ অবস্থান ছিল পার্শ্ববর্তী উপজেলা চকরিয়ায়। এরই মধ্যে বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে একটি মোবাইল নম্বর থেকে বস্তাবন্দি মানুষের অবয়ব নড়াচড়া করছে, এমন একটি ভিডিও পাঠিয়ে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ উঠে। একসঙ্গে তিন কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা-বধুরঝিরি এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয। এক পর্যাযে কুমারী পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ জামিল আহমদের নেতৃত্বে সঙ্গীয় সদস্যরা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের খুলশী থানা এলাকার ২ নম্বর রোডের একটি ও খুলশী টাউন সেন্টারের কনকর্ড টাওয়ারের আরেকটি বাসা থেকে তিন শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেন।
লামা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে তিন শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়। তারা গৃহপরিচারিকার কাজের জন্য চট্টগ্রামের বাসাবাড়িতে অবস্থান করছিল। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে তাদেরকে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।