বান্দরবানের লামায় এক পুকুরে গোসল করতে নেমে মোহাম্মদ জিসাদ (১৯) নামের এক তরুণের করুণ মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলার গোজালিয়া ইউনিয়নের চিংককপাড়ায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

মৃত তরুণের বাবার নাম মিজানুর রহমান। তাঁরা বর্তমানে রাজধানীর ভাষানটেকের পুরোনো কচুখেত এলাকায় বসবাস করছেন। তবে তাঁদের আদি গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার পূর্ব চরভাটা গ্রামে। জানা গেছে, জিসাদসহ মোট ১২ জন তরুণ ঢাকা থেকে দুর্গম এলাকার পাওমুম থারক্লা ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাসের শিশুদের চিত্রাঙ্কন শেখানোর উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিলেন। এক সপ্তাহের একটি বিশেষ কর্মশালায় অংশ নিতে তাঁরা গত শনিবার ওই এলাকায় পৌঁছান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেলে ওই তরুণরা পাড়ার কার্বারির (পাড়াপ্রধান) পুকুরে গোসল করতে নামেন। সেখানে কেউ বাঁশের ভেলায় খেলছিলেন, আবার কেউ ফুটবল বুকে নিয়ে সাঁতার কাটছিলেন। তবে গোসল শেষ করে ফেরার সময় তাঁরা লক্ষ্য করেন যে জিসাদ তাঁদের সাথে নেই। এরপর পুকুরের পানিতে একটি ফুটবল ভাসতে দেখে তাঁরা আশপাশে তল্লাশি শুরু করেন। খোঁজাখুঁজির পর জিসাদকে পুকুর থেকে উদ্ধার করে দ্রুত লামা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদ আজ বৃহস্পতিবার সকালে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “জিসাদের মরদেহ লামা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা পৌঁছালে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।”

উল্লেখ্য, লামা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে গোজালিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে চিংককপাড়া পাওমুম থারক্লা ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাসটি অবস্থিত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাব রয়েছে এমন এক দুর্গম এলাকার দরিদ্র ম্রো পরিবারের শিশুরা সেখানে অবস্থান করে। তারা পাশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে থাকে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের কয়েকজন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি যৌথভাবে এই ছাত্রাবাসটি পরিচালনা করে আসছেন।