রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ছাপাখানার প্রধান ফটক লক্ষ্য করে চালানো বোমা হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। এই ঘটনাকে স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর একটি কাপুরুষোচিত হামলা হিসেবে অভিহিত করে সংগঠনটি অবিলম্বে দোষীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানানো হয়।

ডিআরইউয়ের কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষে সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এক বিবৃতিতে জানান, “রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের লাভ রোড এলাকায় আমার দেশ পাবলিকেশনের প্রধান ফটক লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে প্রতিষ্ঠানটির ছাপাখানার একজন নিরাপত্তাকর্মী আহত হন। একই সময়ে ঘটনাস্থলের সামনে আরেকটি অবিস্ফোরিত বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়।”

সংবাদপত্রের কার্যালয় কিংবা ছাপাখানায় এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করেন ডিআরইউ নেতারা। তারা বলেন, “সংবাদপত্রের কার্যালয় ও ছাপাখানা লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপের মতো জঘন্য ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুধু একটি সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলা নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের অধিকার ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের ওপর সরাসরি আঘাত। গণমাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে কিংবা হামলা চালিয়ে সত্য প্রকাশের পথ রুদ্ধ করার যে কোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে।”

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তবে ছাপাখানায় বোমা নিক্ষেপের মতো ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। নেতৃবৃন্দ সতর্ক করে বলেন, “সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অথচ সংবাদপত্রের ছাপাখানায় বোমা নিক্ষেপের মতো ঘটনা স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করার পরিবেশকে চরমভাবে হুমকির মুখে ফেলছে। এ ধরনের ঘটনার পরও অপরাধীরা পার পেয়ে গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় হামলার আশঙ্কা তৈরি হবে।”

ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে ডিআরইউ। একই সঙ্গে সংবাদকর্মী, সাংবাদিক এবং সংবাদমাধ্যমের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সন্ত্রাস কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা সম্ভব হবে না। সংবাদমাধ্যমের ওপর যেকোনো ধরনের হামলার বিরুদ্ধে সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানাবে।