রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর সাম্প্রতিক হামলা, হুমকি ও হয়রানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে সম্পাদক পরিষদ। সংবাদপত্রের সম্পাদকদের এই সংগঠনটি সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারী ও বাধা প্রদানকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার পাশাপাশি পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেছে।

আজ মঙ্গলবার সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর এবং সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ গণমাধ্যমে প্রেরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এই নিন্দা ও দাবিগুলো জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, “সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি, হয়রানি ও দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় সম্পাদক পরিষদ গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।” বিশেষ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “৪ অক্টোবরের ওই ঘটনায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সাংবাদিকেরা কোনো পক্ষের হয়ে নয়, জনস্বার্থে তথ্য সংগ্রহ ও সংবাদ পরিবেশনের দায়িত্ব পালন করছিলেন।”

সম্পাদক পরিষদ মনে করে, কোনো নির্দিষ্ট সংবাদ, ব্যক্তিগত মতামত কিংবা সাংবাদিকের পেশাগত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মতবিরোধ থাকতে পারে, তবে তার অর্থ এই নয় যে হামলা, হুমকি বা কাজে বাধা দেওয়া যাবে। এই ধরনের কর্মকাণ্ডের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। সংগঠনটির মতে, একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা কেবল একজন পেশাজীবীর ওপর আক্রমণ নয়, বরং এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাধারণ জনগণের জানার অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় মামলা দায়ের এবং তদন্ত শুরু করার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। তবে তারা জোর দিয়ে বলেছে যে, এই তদন্ত অবশ্যই নিরপেক্ষ, বিশ্বাসযোগ্য ও প্রমাণভিত্তিক হতে হবে। এছাড়া হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক পরিচয় বিবেচনা না করে কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনতে হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাংবাদিকের নিরাপত্তা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, বরং এটি একটি মুক্ত, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সমাজের অপরিহার্য শর্ত। ভয়, হুমকি ও সহিংসতার পরিবেশে স্বাধীন সাংবাদিকতা করা সম্ভব নয়। তাই সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত, দৃশ্যমান ও আইনসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ।

সংবাদপত্রের সম্পাদকদের এই সংগঠনটি তাদের দাবির প্রেক্ষিতে পাঁচ দফা দাবি পেশ করেছে। দাবিগুলো হলো:

১. “সাংবাদিকদের ওপর সাম্প্রতিক সব হামলা, হুমকি ও হয়রানির দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।”

২. “হামলার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নির্বিশেষে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।”

৩. “রাজনৈতিক কর্মসূচি, বিশ্ববিদ্যালয়, আদালত, প্রশাসনিক কার্যালয় ও অন্যান্য জনসমাগমস্থলে সাংবাদিকদের নিরাপদে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”

৪. “সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।”

৫. “রাজনৈতিক দল ও তাদের অঙ্গসংগঠনসহ সব পক্ষকে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতি সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করতে হবে।”