কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে সারের ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন স্থানে দলীয় প্রভাব খাটানো এবং অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ডিলার নিয়োগের কথা বলা হয়েছে বৈঠকে। কমিটির একাধিক সদস্য এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে এসব অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।
আজ সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে এই গুরুত্বপূর্ণ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভার মূল আলোচ্য বিষয় ছিল সারের মজুত, সঠিক বিতরণ পদ্ধতি এবং নতুন ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সভায় অন্তত তিনজন সদস্য সারের ডিলার নিয়োগে গুরুতর অনিয়মের কথা উল্লেখ করেন। তাঁদের অভিযোগের একটি বড় অংশ ছিল টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ডিলারশিপ প্রদান করা। বৈঠকে উপস্থিত বিরোধী দলীয় একজন সদস্য অভিযোগ করেন, ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতার চেয়ে দলীয় পরিচয়কে প্রধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং এর ফলে প্রকৃত ও অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরা বঞ্চিত হয়েছেন।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “সারের ডিলারশিপ নিয়ে কমিটির সদস্যদের কেউ কেউ ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কিছু জায়গায় অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে। কমিটি যেসব জায়গায় অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে সেখানে আপাতত সারের ডিলারশিপ স্থগিত রাখতে বলেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে অস্থায়ী ভিত্তিতে। ৩ মাসের মধ্যে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
সারের মজুত ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কমিটির সভাপতি। তিনি আরও জানান, বর্তমানে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং প্রয়োজনের চেয়েও উদ্বৃত্ত সার মজুত আছে।
সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে বৈঠকের পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সারের ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব এলাকায় অনিয়ম ও অসংগতির অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিটি সুপারিশ করেছে। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব ক্ষেত্রে এখনো ডিলারশিপের চুক্তি সম্পাদিত হয়নি, অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেই চুক্তি সম্পাদন স্থগিত রাখতে হবে। আর যেসব ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে চুক্তি হয়ে গেছে, সেখানে উত্থাপিত অভিযোগগুলো যথাযথভাবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে লালমনিরহাট, বরগুনা, সাতক্ষীরা, ফরিদপুর, নওগাঁ ও যশোর জেলার ডিলারশিপ নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
পাশাপাশি সার বিতরণ, মজুত ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম এবং সারের অবৈধ মজুত, বিপণন ও অন্যান্য অনিয়ম সরেজমিনে পরিদর্শন করে সুপারিশ দেওয়ার জন্য একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। এই উপকমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। সদস্য হিসেবে রয়েছেন মো. রোকন উদ্দীন ও সাবিরা সুলতানা।
কমিটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিশেষ আমন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ। এছাড়া সদস্যদের মধ্যে বৈঠকে অংশ নেন শহিদুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, রোকন উদ্দীন, মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সাবিরা সুলতানা ও মো. গোলাম রছুল।