ক্রিকেটারদের জন্য বেতন বৃদ্ধির খবর সবসময়ই আনন্দের, কিন্তু বেতন কমার সংবাদ কখনোই সুখকর হয় না। গত মাসের শেষ দিকে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের ক্রিকেটারদের বেতন কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। এমন একটি সিদ্ধান্তের পর খেলোয়াড়দের মনে হতাশা আসাটাই স্বাভাবিক।
তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি আশা করছেন, বেতন কমার এই মন খারাপ যেন মাঠের খেলায় কোনো প্রভাব না ফেলে। বরং তিনি চান, ক্রিকেটাররা তাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজেদের আর্থিক অবস্থার উন্নতির নতুন পথ তৈরি করে নিন।
বেতন কমানোর এই ঘোষণার পর ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে একটি ম্যাচে জয় পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এছাড়া পাঁচ ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজটি তারা ২-২ সমতায় শেষ করেছে। এবার তারা বাংলাদেশের মুখোমুখি হতে মিরপুর সফর করেছে। আগামী ২৮ অক্টোবর মিরপুর স্টেডিয়ামে শুরু হবে দুই ম্যাচের প্রথম টেস্ট।
আজ মিরপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটারদের বেতন কমার বিষয়টি সামনে এলে ড্যারেন স্যামি ভারত সিরিজের পারফরম্যান্সের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “ভারতের বিপক্ষে সিরিজে আমরা যেভাবে খেলেছি, সেটি দেখুন। খেলোয়াড়দের যখন খবরটি জানানো হয়েছিল, তখন তারা (ভারত সিরিজে) যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করার তাড়না, আবেগ ও আগ্রহ স্পষ্ট হয়েছে।”
খেলোয়াড়দের কেবল মানসিকভাবে উৎসাহিতই করছেন না স্যামি, বরং আর্থিক প্রণোদনার বিষয়টিও মনে করিয়ে দিচ্ছেন। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আগের দুটি চক্রেই পয়েন্ট তালিকার ৮ নম্বরে থেকে শেষ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বর্তমান চক্রেও ১২টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটিতে জিতে তারা ৮ নম্বরেই অবস্থান করছে। অন্যদিকে, ৬ ম্যাচের ৩টিতে জয় পাওয়া বাংলাদেশ এখনো ফাইনালে ওঠার সমীকরণে রয়েছে। তবে স্যামির লক্ষ্য হলো, বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি টেস্ট জিতে অন্তত সেরা পাঁচের তালিকায় জায়গা করে নেওয়া।
সেরা পাঁচে ওঠা কেন এত জরুরি, তা ব্যাখ্যা করে স্যামি বলেন, “এই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে ছেলেদের আমি বলেছি, শীর্ষ পাঁচে থাকতে পারলে বাড়তি আর্থিক প্রণোদনা আছে। আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পুরস্কারমূল্য বাবদ অনেক অর্থ বিনিয়োগ করেছে। আমাদের খেলোয়াড়দের সামনে ৮ নম্বর থেকে ওপরে ওঠার সুযোগ আছে। আগের দুই চক্রেই আমরা ৮ নম্বরে থেকে শেষ করেছি।”
স্যামির মতে, বেতন কমার বিষয়টি এখন আর ড্রেসিংরুমের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নেই। বরং তিনি ক্রিকেটারদের সামনে নতুন এক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। ক্যারিবীয় কোচ জানান, “আমার মনে হয় না, এখন ড্রেসিংরুমে এটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আমি খেলোয়াড়দের চ্যালেঞ্জ দিয়েছি, মাঠে ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজেদের এমন অবস্থানে নিয়ে যেতে হবে, যেন স্পনসরদের সঙ্গে আরও ভালোভাবে দর-কষাকষি করতে পারি এবং নতুন স্পনসর আকৃষ্ট করতে পারি। ভারতের বিপক্ষে সাদা বলের দল দুটি সেই কাজ খুব ভালোভাবেই করেছে বলে আমার মনে হয়েছে। আশা করি, বাংলাদেশে লাল বলের দল হিসেবেও আমরা সেটা করতে পারব।”
বাংলাদেশ সিরিজকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে, যা তাদের প্রস্তুতি থেকেই বোঝা যাচ্ছে। বাংলাদেশে আসার আগে দলটি চেন্নাইয়ে একটি প্রস্তুতি ক্যাম্প সম্পন্ন করেছে। এছাড়া সপ্তাহখানেক আগে বাংলাদেশে এসে তারা দুই দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছে।
ড্যারেন স্যামির দৃষ্টিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে এই দুটি টেস্ট কেবল একটি সিরিজ নয়, বরং নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের বড় সুযোগ। তিনি বলেন, “এই দুটি টেস্ট আমাদের জন্য দারুণ একটি সুযোগ। ২০২৫ সালে যে লক্ষ্য নিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (এই চক্রের) যাত্রা শুরু করেছিলাম, সেই লক্ষ্য পূরণ করে চক্রটি শেষ করার সুযোগ আমাদের সামনে। তাই আমরা সিরিজটির দিকে তাকিয়ে আছি। বরাবরের মতোই প্রতিপক্ষকে সম্মান জানাব, তাদের নিয়ে বিশ্লেষণ করব এবং জয়ের জন্য সহায়ক পরিকল্পনা তৈরি করব। আমার যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস আছে, আমরা এখানে সেটি করতে পারব।”