বসুন্ধরায় বিসিবি একাদশের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রস্তুতি ম্যাচ চলছে। এই ম্যাচে তাইজুল ইসলাম ও মুমিনুল হক না থাকলেও মাঠের আশেপাশে তাঁদের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে। মাঠের পাশের একটি নেটে অনুশীলন করতে দেখা গেছে টেস্ট দলের এই দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে।

জাতীয় দলের তিন নির্বাচককে দেখা গেল বিসিবি একাদশের ড্রেসিংরুমের পাশে বসে গভীর আলোচনায় মগ্ন। তাঁদের আলোচনার মূল বিষয় ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন দুই টেস্টের দল কেমন হতে পারে, তা নিয়ে পরিকল্পনা করা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রস্তুতি ম্যাচ, তাইজুল ও মুমিনুলের লাল বলের অনুশীলন এবং নির্বাচকদের এই তৎপরতা—সব মিলিয়ে এটি স্পষ্ট যে বাংলাদেশ এখন পুরোপুরি টেস্ট ক্রিকেটের আবহে প্রবেশ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট ক্রিকেটই হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় সংস্করণ।

গত এক বছরে টেস্ট ফরম্যাটে বাংলাদেশের উন্নতি অত্যন্ত চোখে পড়ার মতো। ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই টেস্ট জেতার পর ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করে এখন জুনে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলার স্বপ্ন দেখছে লাল-সবুজের দল।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ খুব কাছে আসায় এখন টেস্ট নিয়ে আলোচনা প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। অন্যথায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ত্রিদেশীয় সিরিজের ব্যর্থতা হয়তো এখনো দেশের ক্রিকেট অঙ্গনকে গ্রাস করে রাখত। তবে প্রস্তুতি ম্যাচের লাল বলের আমেজ থাকলেও সেই হতাশার রেশ কিছুটা টের পাওয়া গেছে। ক্রিকেটার, নির্বাচক কিংবা বোর্ড সংশ্লিষ্ট যাদের সাথে কথা বলা হয়েছে, তাঁদের কারোরই মন ভালো নেই। আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে যে ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ ফাইনাল খেলতে পারবে না, তা যেন মানতেই পারছেন না কেউ।

লিটন দাসের চোটের কারণে ত্রিদেশীয় সিরিজে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করা তাওহিদ হৃদয়ও এই পরিস্থিতি মেনে নিতে পারছেন না। পরশু শারজায় আফগানিস্তানের কাছে ৭ উইকেটে পরাজিত হওয়ার পর তিনি বলেন, “আমরা বড় কোনো সিরিজ, ত্রিদেশীয় সিরিজ, এশিয়া কাপ কিংবা বিশ্বকাপে যখন খেলতে যাই, ব্যক্তিগতভাবে এবং দল হিসেবে সবাই ট্রফি জিততে চাই; কিন্তু আমরা শুধু মুখেই বলি, কাজে সেটির প্রতিফলন দেখা যায় না।”

হৃদয়ের এই কথাগুলো সরাসরি তাঁর দলের প্রতি ইঙ্গিত করে। তবে এই সমস্যার সমাধান কীভাবে হবে, তা নিয়ে দিশেহারা নির্বাচকরা। তাঁদের একজনের কণ্ঠে ফুটে উঠেছে চরম অসহায়ত্ব, “কাকে বদলাব বলেন, কাকে দলে নিলে এই সমস্যার সমাধান হবে? দেখে তো মনে হয়, শুরু থেকে শেষ পুরোটাই সমস্যা!”

জাতীয় দল সংশ্লিষ্ট আরেক ব্যক্তি ওয়ানডে নিয়ে কথা বলতেই রাজি হলেন না। তাঁর পুরো মনোযোগ এখন কেবল টেস্টের দিকে। তিনি বলেন, “আমি এটা আর মাথায়ই রাখতে চাচ্ছি না। ওয়ানডেতে আমাদের পরের খেলা এক মাস পর, তখন এসব নিয়ে ভাবা যাবে। আপাতত টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ মন দেওয়াই ভালো।”

বাংলাদেশ দল যখন সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলছিল, তখনই ঢাকায় পৌঁছে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় বর্তমানে চার নম্বরে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। বাকি ৬টি টেস্টের মধ্যে ঘরের মাঠে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে এই দুই টেস্ট এবং ফেব্রুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি টেস্ট জিততে পারলে ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। লক্ষ্যটি কঠিন হলেও অসম্ভব নয়।

তবে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল পূর্ণ শক্তির দল, যা বর্তমানে নেই। নাহিদ রানা চোটের কারণে আগেই ছিটকে গেছেন, ফলে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে খেলছেন না। নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন লিটন দাস, যিনি চোটের কারণে ত্রিদেশীয় সিরিজে খেলতে পারেননি। আগামীকাল তাঁর ফিটনেস টেস্ট হবে এবং এরপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ত্রিদেশীয় সিরিজের সময় ঢাকায় টেস্ট দলের ক্রিকেটাররা আলাদাভাবে অনুশীলন শুরু করলেও পরশু থেকে পুরো দল একসঙ্গে অনুশীলন শুরু করবে বলে জানা গেছে।

এদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল পুরোদমে অনুশীলনে ব্যস্ত। মিরপুরে একদিন অনুশীলনের পর তারা এখন দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছে। ঢাকার আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে তারা প্রস্তুতি ম্যাচে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা তাদের বোলিংয়ের একটি পরীক্ষা হিসেবেও কাজ করেছে। ক্যারিবিয়ান বোলারদের মোকাবিলা করে সেঞ্চুরি করেছেন বিসিবি একাদশের হয়ে তিন নম্বরে ব্যাটিং করা কালাম সিদ্দিকী। প্রথম দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৭ উইকেটে ৩৭১ রান সংগ্রহ করেছে বিসিবি একাদশ।

প্রস্তুতি ম্যাচের মূল লক্ষ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া। তবে বিসিবি একাদশের খেলোয়াড়দের জন্য এটি আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর এবং সেই আত্মবিশ্বাস টেস্ট দলের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার একটি বড় সুযোগ হতে পারে।