আপনার হাতের মুঠোফোনের নোটিফিকেশন কি অনবরত বাজছে? পিসি ম্যাগাজিন-এ প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, স্মার্টফোনে অবিরাম নোটিফিকেশন আসার বিষয়টি এখন সাধারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই নিরন্তর নোটিফিকেশনের বিরক্তি কেবল সময়ের অপচয় নয়, বরং আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সিনেট গ্রুপ পরিচালিত একটি জরিপে দেখা গেছে, সতর্কবার্তার আধিক্যের কারণে মানুষ এখন প্রকৃত জরুরি বার্তা এবং ভুয়া বার্তার মধ্যে পার্থক্য করার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত আধুনিক স্ক্যামগুলো বর্তমান সময়ের প্রতারণাকে সাধারণ কম্পিউটার ভাইরাসের চেয়েও অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক করে তুলেছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ কিম কি এই সংকটের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা ৭৭ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত এক নার্সের ওপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছি। ওই নার্স চতুর–ছদ্মবেশী এক স্ক্যামারের হাতে নিজের জমানো চার লাখ মার্কিন ডলার হারিয়েছিলেন।’
কম্পিউটার এবং স্মার্টফোনে কতবার স্ক্যাম-সংশ্লিষ্ট বার্তা আসে, তা খতিয়ে দেখতে এক হাজার মার্কিন নাগরিকের ওপর একটি বিস্তৃত জরিপ চালানো হয়। এই গবেষণায় উত্তরদাতাদের কাছে মেসেজ, ব্যক্তিগত ই-মেইল, ফোনকল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সন্দেহজনক যোগাযোগের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। জরিপে অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, তারা প্রতি সপ্তাহে এক থেকে দুবার, তিন থেকে পাঁচবার অথবা ছয় বা তার বেশিবার ভুয়া বার্তার সম্মুখীন হন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার ভুয়া মেসেজ বা ই-মেইল পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। এছাড়া ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার স্প্যাম কলের শিকার হন। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, ২৯ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ সপ্তাহে ছয়বার বা তার বেশি ভুয়া ফোনকল পান। ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা সপ্তাহে ৬ বার বা তার বেশি ভুয়া ই-মেইল পান। অন্যদিকে, ১৮ শতাংশ উত্তরদাতা সপ্তাহে অন্তত ছয়বার ভুয়া টেক্সট মেসেজ পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। পিসি ম্যাগ-এর সূত্রমতে, বিশ্বজুড়ে এই ধরনের প্রতারণামূলক প্রবণতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।