একটি কবিতার মাধ্যমে একজন সরকারি কর্মকর্তার পদত্যাগের করুণ অথচ হাস্যরসাত্মক চিত্র ফুটে উঠেছে। বিদায়ের মুহূর্তে তার মনের কথাগুলো যেন এক দীর্ঘশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ। সেই আকুতি ও স্মৃতিচারণ করে তিনি বলছেন, “পেয়েছি ছুটি, বিদায় দেহ ভাই, চেয়ারটিকে শেষ প্রণাম জানাই। ফিরিয়ে দিলাম দপ্তর-চাবি, রাখব না আর আসন দাবি, শেষবিদায়ের মিষ্টি বাণী চাই— পেয়েছি ছুটি, বিদায় দেহ ভাই!”
দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট পদে আসীন থাকার অভিজ্ঞতা এবং সেই সময়ের প্রভাবের কথা স্মরণ করে তিনি জানান, কত মানুষ তার পেছনে ঘুরত। সেই আভিজাত্যের দিনগুলো এখন কেবলই স্মৃতি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “কত দিনই ছিলাম পদে, কত লোকই ঘুরত পিছে রথে! গাড়ি, পতাকা, স্যার সম্বোধন, সবই আজ অতীতের স্মরণ— আগের মতো ডাকটি আর না পাই! পেয়েছি ছুটি, বিদায় দেহ ভাই!”
হঠাৎ আসা নির্দেশের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, তার সময় শেষ হয়ে গেছে। এখন সেই চেয়ারটি অন্য কারো জন্য অপেক্ষা করছে। এই মুহূর্তটিকে বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “নির্দেশ এসে বলল, ‘এবার নামতে হবে, সময় হয়েছে তোমার!’ নিভল বাতি, সরল ফলক, চেয়ারখানায় পড়ল পলক, নতুন বসার অপেক্ষাতে তাই— পেয়েছি ছুটি, বিদায় দেহ ভাই!”
এই শোকের মুহূর্তে গণেশ নামের এক ব্যক্তির সাথে তার কথোপকথন উঠে এসেছে। গণেশ তাকে প্রশ্ন করেন, “কাঁদছ কেন ভাই? ছুটি পেলে খুশি হওয়াই চাই!” যার উত্তরে তিনি জানান যে, স্বেচ্ছায় অবসর এবং নির্দেশে পদত্যাগের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। তিনি বলেন, “বললাম, ‘ছুটি চেয়েছি কবে? ছুটি এসে হাজির তবে! স্বেচ্ছায় আর নির্দেশে ফারাক যে ভাই!’”
এমনকি সেই চেয়ারটিও যেন কথা বলে ওঠে। চেয়ারটি তাকে মনে করিয়ে দেয় যে, তার আগে আরও অনেকে এই আসনটিকে আপন মনে করলেও কেউ চিরস্থায়ী হতে পারেনি। চেয়ারের সেই কাল্পনিক কথাগুলো ছিল এমন— “যেয়ো তবে, আবার দেখা হতে পারে সবে। তোমার আগে কতজনই আমায় ভেবে আপন মানে— কেউই তো আর চিরদিনের নাই!”
সবশেষে বিদায়ী বাবু তার দপ্তরের চাবি বুঝিয়ে দিয়ে প্রস্থান করেন। তবে যাওয়ার আগে তার মনে জাগে এক অজানা আশঙ্কা। দপ্তরের হিসাব-নিকাশ এবং জবাবদিহিতার কথা ভেবে তিনি বলেন, “বাবু কয়, ‘প্রণাম জানাই!’ পদটি গেল, থাকল খাতা, থাকল কত প্রশ্নেরই পাতা। চাবি দিলাম, দরজা ছাড়ি, দায়ের হিসাব কোথায় পাড়ি? জবাব দেওয়ার বেলায় যেন ছুটির কথা না ওঠে তাই! পেয়েছি ছুটি, বিদায় দেহ ভাই।”