লেখক বি.স.-এর শৈশবের স্মৃতিতে ভেসে ওঠে তার এক খালার স্বামীর কথা, যাকে তিনি 'খালু' বলে সম্বোধন করেন। ছোটবেলায় যখনই এই খালুর সাথে দেখা হতো, তিনি লেখকের ইংরেজি অনুবাদ করার দক্ষতা যাচাই করতেন। সেই স্মৃতিচারণ করে লেখক জানান, খালু তাকে জিজ্ঞেস করতেন, “পাখিরা আকাশে উড়িতেছে, এইটার ইংলিশ কী?”

সেই সময়ে লেখক খুব নিচু স্বরে উত্তর দিতেন, “দ্য বার্ডস আর ফ্লাইং ইন দ্য স্কাই!” তবে উত্তর দেওয়ার পর আসল চ্যালেঞ্জ আসত যখন খালু গম্ভীর স্বরে প্রশ্ন করতেন, “কোন টেন্স?”

অনুবাদ মুখস্থ থাকলেও ব্যাকরণের জটিলতা বা টেন্স সম্পর্কে লেখকের তেমন ধারণা ছিল না। ফলে আকাশ-পাতাল চিন্তা করেও তিনি সঠিক উত্তর দিতে পারতেন না। এই ব্যর্থতার জন্য খালুর কাছ থেকে তাকে প্রচণ্ড অপমান সহ্য করতে হতো। আর যখনই খালু বিদায় নিতেন, তখন আম্মার হাতে মার খেতে হতো লেখককে। লেখকের ভাষায়, এটি ছিল তার জন্য এক বিশাল ট্রমার ব্যাপার।

দীর্ঘ বছর পর সম্প্রতি অফিস থেকে বাসায় ফিরে লেখক দেখতে পান যে তার সেই খালু এসেছেন। শোনা গিয়েছে, ইদানীং তিনি রাজনীতিতে কিছুটা যুক্ত হয়েছেন। পুরনো স্মৃতি মনে করে লেখক ভাবলেন, এবার একটু পাল্টা খোঁচা দেওয়া যাক।

সেই মুহূর্তে দেখা গেল খালু ভাত খাচ্ছেন। লেখক তার পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, “একসময় সিলিন্ডারের দাম মানুষের নাগালের ভিতরেই ছিল। ও খালু, এটার ইংলিশ কী?”

লেখকের এই প্রশ্নেই ক্ষুব্ধ হয়ে খালু উত্তর দিলেন, “বাবা, মজা করার ম্যাগাজিন বাইর করো বইলা সবখানে মজা নিবা, এইটা তো ঠিক না!”

তখন লেখক বিনয়ের সাথে বললেন, “ছি ছি খালু, কী বলেন! মজা নিতেছি না। আচ্ছা এটার ইংলিশ পারেন না, বুঝছি। আমি নিজেও পারি না। শুধু বলেন, সিলিন্ডারের দাম এককালে হাতের নাগালে ছিল, এইটা কোন টেন্স?”

প্রশ্নটি শুনে খালু কিছুক্ষণ গভীরভাবে চিন্তা করলেন। এরপর শিং মাছের একটি টুকরো মুখে তুলতে তুলতে তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে উত্তর দিলেন, “Past is past!”