বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক বা সামরিক জোটে জড়িয়ে পড়া উচিত নয় বলে মনে করে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। দলটি বলেছে, দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় স্বাধীন ও জোট নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পার্বত্য জেলাগুলোতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর রাজনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সংহতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভার দ্বিতীয় দিনের রাজনৈতিক অধিবেশন শেষে গৃহীত প্রস্তাবে এসব কথা বলা হয়।
প্রস্তাবে বিএনপি সরকারকে পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ দিকে ঝুঁকে না পড়ার আহ্বান জানানো হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ কোনোভাবেই রাজনৈতিক বা সামরিক জোটে জড়িয়ে পড়তে পারে না। এমন পদক্ষেপ দেশের নিরাপত্তাঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিসহ অতীতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিগুলো সংসদে আলোচনার মাধ্যমে অসম ও অন্যায্য চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বানও জানানো হয়।
কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক প্রস্তাবে রাঙামাটির সাজেকের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, পার্বত্য তিন জেলায় সশস্ত্র সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা থেকে বেরিয়ে এসে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। গত কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে, এ সংকটের সামরিক সমাধান নেই। সংকট উত্তরণে পার্বত্য জেলাগুলোর সব পক্ষকে যুক্ত করে দ্রুত কার্যকর রাজনৈতিক উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় গৃহীত অপর এক প্রস্তাবে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। প্রস্তাবে বলা হয়, বিদেশে বাংলাদেশের লাখ লাখ শ্রমিক চরম অনিরাপদ ও ভয়ংকর পরিবেশে কাজ করছেন। নারী শ্রমিকদের জীবন ও সম্ভ্রম আরও অনিরাপদ। সম্প্রতি সৌদি আরবে বাংলাদেশের দুই নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড এবং সাত হাজার বাংলাদেশির গ্রেপ্তারের ঘটনায় মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ অনিরাপদ ও ভয়ংকর পরিস্থিতির অবসানে সরকারকে দ্রুত কার্যকর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
দলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান, আবু হাসান টিপু, আনছার আলী দুলাল, মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, মাহমুদ হোসেন, রাশিদা বেগম, অ্যাডভোকেট মাহবুবুল করিম টিপু, সজীব সরকার রতন, সাইফুল ইসলাম, মাসুদুর রহমান মাসুদ, স্নিগ্ধা সুলতানা ইভা, সাইফুর রেজা মামুন, মীর রেজাউল আলম, ফিরোজ আলী, আওয়াল মাহমুদ, জামাল সিকদার, আবুল কালাম আজাদ, আইয়ুব আলী ও মোহাম্মদ স্বাধীন মিয়াসহ অনেকে।
কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় দলের আগামী দিনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিতে যোগ দিলেন পরশ ভাসানী
মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নাতি ও আবু নাসের খান ভাসানীর ছেলে রাজনীতিক পরশ ভাসানী বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিতে যোগ দিয়েছেন।
শনিবার সকালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলটিতে যোগ দেন। এ সময় দলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের হাতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতি সংহতি ও একাত্মতা প্রকাশ করেন পরশ ভাসানী। অনুষ্ঠানে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।