আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মঈনুল হাসান। তিনি আগের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হকের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।

আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় নবনিযুক্ত মহাপরিচালক হস্তান্তর ও গ্রহণ বইয়ে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে কোস্টগার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

১৯৮৯ সালের ১ জুলাই বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদানকারী রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মঈনুল হাসান ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি নৌবাহিনীর এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। দেশবিদেশে উচ্চতর শিক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা এই সামরিক কর্মকর্তা ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ, মিরপুর; ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ, মিরপুর এবং ভারতের ওয়েলিংটনের ডিফেন্স সার্ভিসেস স্টাফ কলেজ থেকে কৃতী হিসেবে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল ওয়ার কলেজ, রোড আইল্যান্ড থেকে নেভাল কমান্ড কলেজ কোর্স (এনসিসি–২০১৭) শেষ করেন। এছাড়া ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ থেকে ডিফেন্স স্টাডিজে এমএসসি এবং ভারতের তামিলনাড়ু ইউনিভার্সিটি থেকে স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে এমএসসি ডিগ্রি রয়েছে তাঁর। সাভারের বাংলাদেশ পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ট্রেনিং সেন্টার থেকে সিনিয়র স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে (বিইউপি) পিএইচডি করছেন তিনি।

দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে নৌবাহিনীতে কমান্ড, স্টাফ ও নেতৃত্বমূলক বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল ও কমান্ডার বাংলাদেশ নেভাল ফ্লিট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নেভি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের প্রথম কমান্ড্যান্ট ও কমোডর নেভাল এভিয়েশন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সমুদ্রগামী দায়িত্ব ও নেভিগেশন কার্যক্রমে বিশেষ অভিজ্ঞতা রাখেন তিনি। একটি করভেট, দুটি অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল, তিনটি মিডিয়াম ও স্মল ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট এবং একটি মিসাইল বোটের অধিনায়কত্ব করেছেন। কমান্ডিং অফিসার, ফ্লাইং উইং হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নেভাল এভিয়েশন উইংয়ের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। নেভিগেশন স্কুলের প্রশিক্ষক ও ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের নেভাল উইংয়ে ডাইরেক্টিং স্টাফ হিসেবেও কাজ করেছেন।

নৌ সদর দপ্তরে নৌ পরিকল্পনা ও নৌ এভিয়েশনের পরিচালক এবং নেভাল সেক্রেটারি হিসেবে স্টাফ দায়িত্ব পালন করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের উপমহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ২০০৭–২০০৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ইন আইভরি কোস্টে সামরিক পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সামরিক মহড়া, সম্মেলন ও সেমিনারে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। পেশাগত অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘নৌবাহিনী পদক’, ‘বিশিষ্ট সেবা পদক’ ও ‘বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পদক’ অর্জন করেন তিনি।

নবনিযুক্ত মহাপরিচালকের সুদক্ষ নেতৃত্বে কোস্টগার্ডের পেশাগত সক্ষমতা আরও সুদৃঢ়, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের সমুদ্রসীমা, উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বাহিনীর কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা যায়।