তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরি ২৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি)। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে এই দাবি করা মজুরির পরিমাণ দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৩২ হাজার টাকা।

গতকাল শনিবার সকালে আইবিসির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বিস্তারিত আলোচনার পর পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির এই দাবি চূড়ান্ত করা হয়। আজ রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংগঠনটি এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

আইবিসির সভাপতি মীর আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন স্বপন, সিনিয়র সহসভাপতি আমিরুল হক, সহসভাপতি চায়না রহমান এবং কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল আমিন, বাবুল আক্তার, রাশেদুল আলম, তাহমিনা রহমান, খাদিজা রহমান, জাহিদুল ইসলাম ও আবু বক্কর সিদ্দিকসহ আরও অনেকে।

সভায় বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলা হয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম এখন আকাশচুম্বী। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে শ্রমিকদের যাতায়াত ভাড়ার ওপর, যা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি জীবনধারণের খরচকে ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে বর্তমান মজুরির হারে পোশাক শ্রমিকদের পক্ষে সংসার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারের দরে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা পোশাক শ্রমিকসহ নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

আইবিসি তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখেই ২৬০ ডলার নিম্নতম মজুরির দাবি তোলা হয়েছে। খুব শীঘ্রই অন্যান্য গ্রেডের মজুরির হার চূড়ান্ত করা হবে। এছাড়া সরকার কর্তৃক নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হলে লিখিতভাবে একটি প্রস্তাব বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধির কাছে জমা দেওয়া হবে বলে তারা জানিয়েছে।

এদিকে তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের লক্ষ্যে মালিক ও শ্রমিক সদস্যদের নাম চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। গত ১৫ অক্টোবর মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের জন্য বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের কাছে এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের জন্য জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতির কাছে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালে তৈরি পোশাক খাতের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছিল। সে সময় মজুরির হার বৃদ্ধি পেয়েছিল ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। ওই মজুরিকাঠামোয় আগে বিদ্যমান সাতটি গ্রেডের পরিবর্তে পাঁচটি গ্রেড নির্ধারণ করা হয়।