গার্মেন্টস শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে দ্রুত মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন ও আগামী নভেম্বরে মজুরি ঘোষণার দাবি জানিয়েছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি)। সংগঠনটি চায়, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বোর্ড গঠন করা হোক এবং আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণ করে ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর করা হোক।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। আইবিসির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন স্বপন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর সাম্প্রতিক সংশোধনে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয়েছিল। আগামী নভেম্বরে সেই সময়সীমা পূর্ণ হবে। তবে নতুন মজুরি নির্ধারণের জন্য এখনো মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

আইবিসির যুক্তি হলো, শ্রম আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী মজুরি বোর্ড গঠনের ছয় মাসের মধ্যে সরকারের কাছে মজুরির হারসংক্রান্ত প্রস্তাব দেওয়ার কথা। সে হিসাবে নভেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণ করতে হলে মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করা প্রয়োজন ছিল।

সংগঠনটি জানায়, গত ৪ আগস্ট শ্রমমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়ে দ্রুত মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে সালাউদ্দিন স্বপন বলেন, "বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বাড়িভাড়া ও চিকিৎসার ব্যয় বেড়েছে। এর মধ্যে সরকারি কর্মচারীদের বেতন–ভাতা ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তাঁর দাবি, একই বাজারে শ্রমিকদের আয় ও সরকারি কর্মচারীদের আয়ের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গার্মেন্টসসহ অন্যান্য শিল্পের শ্রমিকদের জন্য নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা জরুরি।"

আইবিসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ছিল ১ হাজার ৬৬২ টাকা ৫০ পয়সা। ২০১০ সালে তা ৩ হাজার টাকা, ২০১৩ সালে ৫ হাজার ৩০০, ২০১৮ সালে ৮ হাজার ও ২০২৩ সালে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

সংগঠনের নেতারা বলেন, গত দুই দশকে শ্রমিকদের মজুরি বাড়লেও একই সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। ফলে মজুরি বৃদ্ধির সুফল শ্রমিকদের জীবনযাত্রায় কতটা প্রতিফলিত হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

আইবিসি বলেছে, করোনাভাইরাসের মহামারির সময় ঝুঁকি নিয়ে গার্মেন্টস শ্রমিকেরা কারখানায় কাজ করে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম সচল রেখেছিলেন। অথচ তাঁদের মজুরি ও অন্যান্য সুযোগ–সুবিধা নিয়ে পরবর্তী সময়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে আইবিসি জানায়, তাদের আওতাভুক্ত ১৯টি শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে ১৬টি গার্মেন্টস, দুটি কেমিক্যাল ও একটি মেটাল খাতের শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করে। সংগঠনটির দাবি, বাংলাদেশের সংগঠিত গার্মেন্টস শ্রমিকদের প্রায় ৭০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে তারা।

দাবি আদায়ে আগামী ৪ অক্টোবর বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও মিছিল করে শ্রমমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া ৫ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে গাজীপুর, সাভার–আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে আঞ্চলিক সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করবে আইবিসির আঞ্চলিক কমিটিগুলো।

সংবাদ সম্মেলনে আইবিসির সভাপতি মীর আবুল কালাম আজাদ, সিনিয়র সহসভাপতি আমিরুল হক আমিন, সহসভাপতি চায়না রহমানসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয়, আঞ্চলিক, নারী ও যুব কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।