২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করা নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে ওই ছবি বাদ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। বোর্ডের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বইটিতে জ্ঞানের পিরামিডের চারটি স্তরের নাম উল্লেখ থাকলেও সেগুলোর পাশে কোনো প্রতীক বা আইকন রাখা হবে না।

আজ রোববার এনসিটিবির সদস্য এ কে এম শওকত আলী খান মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন।

এ কে এম শওকত আলী খান বলেন, ‘উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা—এ চার স্তরের নাম থাকবে। তবে এখানে কোনো আইকন থাকবে না। এ বছর এভাবেই যাবে। পরের বছর বিষয়গুলো পুনরায় আরও পরিমার্জন করব, যাতে কোনো ভুল তথ্য না যায়।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে বইটির ছাপার কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল এনসিটিবি। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে যেসব বই ইতিমধ্যে পৌঁছে গেছে, সেগুলো সংগ্রহ করে প্রতীক পরিবর্তনের পর পুনরায় শিক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করার পরিকল্পনা জানানো হয়েছিল। তবে সেই সময়ে দাঁড়িপাল্লার পরিবর্তে ঠিক কোন প্রতীকটি ব্যবহার করা হবে, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এনসিটিবির একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, যেসব বই ইতিমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে, সেগুলোর জ্ঞানের পিরামিডের ধারণা দেওয়া পৃষ্ঠার ওপর নতুন করে ছাপানো একটি পরিমার্জিত পৃষ্ঠা বসিয়ে দেওয়া হবে। এই পর্যায়ে পুরো বইটি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, কারণ এতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় এবং সময়ের প্রয়োজন হবে।

দাঁড়িপাল্লার প্রতীক পরিবর্তনের বিষয়ে গতকাল শনিবার প্রেস মালিকদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছে এনসিটিবি। কয়েকজন প্রেস মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বইয়ের সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠায় নতুন করে ছাপানো আরেকটি পৃষ্ঠা যুক্ত করার প্রস্তাবে তাঁরা একমত হয়েছেন।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ পাঠে জ্ঞানের পিরামিডের বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই পিরামিডের চারটি স্তর রয়েছে। নিচ থেকে পর্যায়ক্রমে স্তরগুলো হলো— উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা। প্রতিটি স্তরকে আলাদাভাবে বোঝাতে ভিন্ন ভিন্ন প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছিল।

উপাত্তের স্তরে রাখা হয়েছিল পাই চার্ট বা ঘড়ির মতো একটি বৃত্তাকার প্রতীক। তথ্যের স্তরে পরমাণু বা নেটওয়ার্কের মতো দেখতে একটি প্রতীক ব্যবহার করা হয়। জ্ঞানের স্তর বোঝাতে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি দেওয়া হয়েছিল। আর পিরামিডের সর্বোচ্চ স্তর অর্থাৎ প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে রাখা হয়েছিল দাঁড়িপাল্লা।

এনসিটিবি সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ের প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানো হচ্ছে, যার অধিকাংশের কাজ ইতিমধ্যে শেষ। এছাড়া ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য সব মিলিয়ে প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আগের শিক্ষাবর্ষের বইয়ের সঙ্গে তুলনা করলে প্রজ্ঞার প্রতীক পরিবর্তনের এই ধারাটি আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন এনে অন্তর্বর্তী সরকার ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে যায়। সেই অনুযায়ী, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য পরিমার্জিত ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়েও প্রজ্ঞার স্তরে দাঁড়িপাল্লার ছবি ছিল।

তবে চলতি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে পুনরায় দাঁড়িপাল্লার ছবি ফিরে আসায় বিতর্ক শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত তা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।