আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পাঠ্যবইয়ে 'প্রজ্ঞা' বিষয়টি বোঝাতে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এই ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) বইটির বর্তমান মুদ্রণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে যে পরিমাণ বই ছাপা হয়ে গেছে, সেগুলো পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সাথে এই ঘটনার বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ষষ্ঠ শ্রেণির এই বইটির প্রায় ২০ লাখ কপি ইতোমধ্যে ছাপা হয়ে মাঠপর্যায়ে পৌঁছে গেছে। বর্তমানে সেই বইগুলো পুনরায় ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে। তবে এই বিপুল পরিমাণ বই ফেরত আনা, সংশোধন করা এবং পুনরায় মুদ্রণ করার ফলে একদিকে যেমন বড় অঙ্কের অর্থের অপচয় হবে, তেমনি প্রচুর সময়েরও ক্ষতি হবে। উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের মধ্যেই মাঠপর্যায়ে সব বই পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে সরকার।

বিষয়টি নিয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক আবু নাসের টুকু মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “চেয়ারম্যান স্যারের নির্দেশে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। বইটি সংশোধন করে ফের পাঠাতে খুব বেশি সময় লাগবে না। আমরা যথাসময়ের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে বই পৌঁছাতে পারব।”

তবে এই দাঁড়িপাল্লার ছবি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতীক হওয়ার কারণেই পরিবর্তন করা হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি তিনি।

বইটির বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ের 'উপাত্ত ও তথ্য' পাঠে জ্ঞানের পিরামিডের ধারণা দেওয়া হয়েছে। এই পিরামিডের চারটি স্তর রয়েছে। নিচ থেকে পর্যায়ক্রমে স্তরগুলো হলো— উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা। প্রতিটি স্তরকে আলাদা আলাদা প্রতীকের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

উপাত্তের স্তরে ব্যবহার করা হয়েছে পাই চার্ট বা ঘড়ির মতো একটি বৃত্তাকার প্রতীক। তথ্যের স্তরে পরমাণু বা নেটওয়ার্কের মতো দেখতে একটি প্রতীক রাখা হয়েছে। জ্ঞানের স্তর বোঝাতে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। আর পিরামিডের সর্বোচ্চ স্তর অর্থাৎ প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে বসানো হয়েছে দাঁড়িপাল্লার ছবি।

এনসিটিবি সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ের মোট ৩৮ লাখ কপি ছাপানোর কথা রয়েছে, যার অধিকাংশ ইতোমধ্যে ছাপা হয়ে গেছে। এছাড়া ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য সব মিলিয়ে প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানোর কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য পরিমার্জিত ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়েও প্রজ্ঞার স্তরে দাঁড়িপাল্লার ছবি ছিল। তবে চলতি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে পুনরায় দাঁড়িপাল্লার ছবি ফিরে আসায় বিতর্ক তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত প্রতীকটি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।